সম্পাদকীয়

  • সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

    সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

  • ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

    ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

  • পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

    পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

  • ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

    ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

  • নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

    নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

কৌশলী যুদ্ধে সব কিছুই কথার কথা!

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

লেখালেখির, বলাবলির, দেখাদেখির হাজার বিবৃতি সামনে আসলেও গুণগত পরিবর্তন কি কোথাও দৃশ্যমান? মনে হয় না। বুদ্ধিজীবী টকশো করছে, কলামিস্ট কলাম লিখছে, সাহিত্যিক সাহিত্য নিয়ে দিন পার করছে, রাজনীতিবিদ মঞ্চে ভাষণ দিয়েই চলেছে। কিন্তু পরিবর্তন কোথায়? সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন ঘিরে এই সময় অবধি চলেছে কৌশলী যুদ্ধ। অর্থাৎ কে কতটা কৌশলগতভাবে এগিয়ে সেই যুদ্ধে এখনও আবর্তিত। হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই কৌশলী যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড। সেই রাউন্ডকে কি বলে আখ্যা দেয়া যাবে, সেটা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। কারণ কৌশলী যুদ্ধে জয়-পরাজয় এখনও নির্ধারণ হয়নি।  

এতোকিছুর মাঝখানে বাংলাদেশ ভাবনা অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভাবনা সবকিছুই থেকে যায় পর্দার আড়ালে। অথচ কৌশলী যুদ্ধের প্রথম এবং প্রধান হাতিয়ার সেই সাধারণ মানুষ।

বলতে কেউ কম বলে না, দেখতেও কেউ কম দেখে না, শুনতেও কেউ কম শোনেনা। সবকিছুই হয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। যার কারণে যে যা বলছে সেটা যেমন বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়, যে যা দেখছে সেটাও ঠিক নয়, যে যা শুনছে সে সব সত্য নয়।

বিজ্ঞানের থিওরিতে, ট্রান্সফরমারের কয়েলের যে প্যাচ সংখ্যা, যে পরিমাপ সেটা থেকে কম হলে যেমন সঠিক পাওয়ার স্থানান্তর হয় না, আবার বেশি হলেও হয়না। একটি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল হিসাব সঠিক পাওয়ার দিয়ে থাকে।

নির্বাচনে কৌশলগত যুদ্ধে, কোন কিছুরই কমতি থাকে না। তাই এই সময়ে জনগণকে দেয়া ওয়াদা কোনটাই সঠিক নয়, কোনটাই শেষ অবধি স্থায়িত্ব পায়না। কারণ কৌশলগত যুদ্ধের জয় পরাজয়ের পরেই দ্বিতীয় রাউন্ড কি হবে সেটাই নির্ধারণ করে দেবে আসলেই জনগণ কি পাবে।  

আর তাই যে যাই বলুক, যে যাই দেখুক, যে যাই শুনুক মূলত নির্বাচনে জয়ের পাল্লা অন্তত এবার ভারি হবে অতীতকে বিশ্লেষণ করে। অতীত মানুষকে কি দিয়েছে, কার দেবার এবিলিটি আছে, কার সেই বিশ্বাসযোগ্যতা আছে সেটার হিসাবেই নির্বাচনের জয়ের পাল্লা ভারি হবে বলেই মনে হয়।  

একটু যদি মিলিয়ে নেন তাহলে ভাল হয়,  কৌশলী যুদ্ধে কে কতটা এগিয়ে।

১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ রয়েছে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে। অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরতে প্রথমে জাতীয় ঐক্যজোট, পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, এরপরে ঐক্যফ্রন্ট,  এরপরে আবার বিএনপিতে ফিরে এসেছে।  

মাঝখান থেকে ঐক্যফ্রন্ট বলতে মূলত যারা ছিলো, সকলেই হলো ভাঙা কুলা। ছাই ফেলা হয়ে গেলেই ঝরে যাবে অকালে।

সকলেই এলো মনোনয়ন দাখিলে। বিএনপি আসনপ্রতি গণহারে নমিনেশন দিয়ে বুঝিয়ে দিলো, তাদের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে গলদ। একজন বাদ গেলেও যেন আসনে প্রার্থী কেউ না কেউ থাকে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে অধিক সংখ্যায় ব্যক্তিদের নমিনেশন দিয়ে প্রাথমিক বিরোধ জটিলতা থেকে বেঁচে থাকার একটি অভিপ্রায়, একই সাথে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অভিপ্রায়। যেহেতু তারা জানতেন যে, বিএনপির দুই নেতা নির্বাচন করতে পারবেন না, আইনের হাতে বন্দী সেহেতু তাদের সকল বলাবলি, শোনাশুনি, দেখাদেখি উক্ত দুইজনকেই মুক্ত করার জন্য।  যেখানে দেশ বা জনগণ মূখ্য নয়। শেষ অবধি যদি তারা বুঝতে পারে,  কোন মতেই নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব নয়, তাহলে শেষ অপশন নির্বাচন বানচাল করা এবং একটি অস্থির সময়, অস্থির পরিবেশ তৈরি করা। সেই বানচালে কোন পথ দিয়ে করবে সেটা বোঝা যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।  

অপরদিকে আওয়ামী লীগের মহাজোট যার যার প্রতীকে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে প্রায় সব আসনেই। যার ফলে বিএনপি যদি নির্বাচন বানচালের পথে এগিয়েও যায়,  নির্বাচনে যদি অংশ নাও নেয় তবুও ৩০০ আসনের প্রায় সব আসনেই লড়াইয়ে থাকবে ৩/৪ জন করে ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রার্থী।  

যেহেতু উন্নত দেশসমূহে ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হলে নির্বাচনকে শুদ্ধ বলে মনে করা হয়, সেহেতু বাংলাদেশে ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হলেই নির্বাচন শুদ্ধ বলেই বিবেচিত হবে।  

তাই বলা যায় কৌশলী যুদ্ধে আওয়ামী লীগ এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। এই এগিয়ে থাকা বিএনপিকে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাকি রইল দেশের জনগণ। তারা যদি বুঝে থাকে প্রথম রাউন্ডের সব বলা, সব শোনা, সব দেখা হলো চাপাবাজি। তাহলে তারা অতীতকে বর্তমানে এনেই রায় প্রদান করবে বলেই আমার ধারণা। কার আমলে কি পেয়েছে, কতটা পেয়েছে, সেটাই হবে তাদের বিবেচ্য বিষয়।

লেখক : কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...