সম্পাদকীয়

  • সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

    সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

  • ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

    ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

  • পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

    পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

  • ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

    ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

  • নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

    নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

‘সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল’ নিয়ে বিভ্রান্তি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

অধ্যাপক সেলিম তোহা

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা ড. কামাল হোসেন - এ কথাটি বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের গণপরিষদ। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে আসার পর ১১  জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে এক সাংবিধানিক আদেশ জারি করেন এবং ১৯৭০ সালের তদানীন্তন পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ভোটে যাঁরা জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁদেরকে নিয়ে গণপরিষদ গঠন করেন। যে গণপরিষদকে কোন আইন প্রণয়ণের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। কেবলমাত্র বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। 

৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর তারিখে কমিটি খসড়া উপস্থাপনের পর ৭৪টি পৃথক বৈঠকে দীর্ঘ প্রায় ৩০০ ঘণ্টা আলোচনা-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই খসড়া সংবিধানের ১৬৫টি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে ৮৬টি সংশোধনী প্রস্তাব গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খসড়া সংবিধান প্রণয়নের সময় বলেন, “বাংলাদেশের এই সংবিধান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের রক্ত দিয়ে লিখিত।” অতঃপর গণপরিষদে দীর্ঘ আলোচনার পর একই বছরের ৪ নভেম্বর একটি হস্তলিখিত সংবিধানে গণপরিষদের সকল সদস্য স্বাক্ষর করেন। 

১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সংবিধান যাত্রা শুরু করে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক হিসেবে ডঃ কামাল হোসেনের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, একইভাবে বাংলাদেশ সংবিধান রচনার জন্য কমিটির বাকী ৩৩ জন সদস্য বিশেষ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান ও ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামের গুরুত্বও হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় এই যে, সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে বিভিন্ন মহলে সংবিধান বিষয়ে ড. কামাল হোসেনকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তিনি একাই পুরো সংবিধানটি লিখেছেন। এটা কি বিভ্রান্তিকর নয়? 

সংবিধান তো ‘বিষাদসিন্ধু’ নয়- যার একক কৃতিত্ব মীর মশাররফ হোসেনের। এটি নয় কোন নিছক গ্রন্থ কিংবা গল্প উপন্যাস, যার একক কৃতিত্ব আরোপ করা যায় গ্রন্থকার কিংবা উপন্যাসিককে। সংবিধান রচনা একটি সংঘবদ্ধ কাজ। যে কাজে সম্পৃক্ত সকল সদস্যের ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর একক কৃতিত্ব যদি আরোপ করতেই হয়- সে কৃতিত্বের দাবিদার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু, যাঁর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় রচিত হয়েছে এ সংবিধান। 

প্রসঙ্গতঃ ১৯৯২ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একটি গঠনতন্ত্র রচনার জন্য তদানীন্তন আইন বিভাগের শিক্ষক জনাব এস এম সোলাইমানকে আহবায়ক, আমাকে এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক জনাব সাইফুল ইসলামকে সদস্য করে খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। আমরা সে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করি এবং সেই গঠনতন্ত্রের খসড়াটি আমি নিজ হাতে লিখি। এখন যদি বলা হয় যে, এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছেন জনাব এস এম সোলাইমান- সেটি কি সমীচীন হবে? 

গত ৭ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার যে ম্যুরাল উন্মোচন করেন এই ম্যুরাল নির্মাণ কমিটির আহবায়ক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ট্রেজারার হিসেবে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এখন যদি প্রকাশ করা হয় এই ম্যুরালের নির্মাতা অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা এটি কি সঠিক হবে? জাতিসংঘের চার্টার প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক ছিলেন তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। এখন যদি বলা যায়, জাতিসংঘ সৃষ্টি করেছে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এটি কি সঠিক হবে? তাহলে তদানীন্তন বিশ্ব নেতা উইনস্টন চার্চিল, রাশিয়ার যোসেফ স্তালিন, চীনের মাও সেতুং তাদের এই চার্টার/জাতিসংঘ গঠনের পিছনে কি কোনই ভূমিকা ছিল না?

তাই বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন এ কথাটি মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।


লেখক-ট্রেজারার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক, আইন বিভাগ

আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...