সম্পাদকীয়

  • সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

    সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

  • ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

    ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

  • পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

    পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

  • ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

    ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

  • নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

    নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বৃটেনে বসবাসকারি বাঙ্গালীদের কার্যকর ভুমিকা চাই !

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০১৮

মানিক বৈরাগী

গ্রেট বৃটেনে বাঙ্গালীদের বসবাসের শত বছরের ইতিহাস আছে। আছে গৌরমবময় রাজনৈতিক ইতিহাস। পাশাপাশি দালালির ইতিহাসও কম নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বাঙ্গালীরা বৃটিশের পক্ষে অবস্থানের ইতিহাস সমৃদ্ধ। আবার ভারত উপমহাদেশে এই বৃটিশ রাজত্বকে খেদানোর লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসও সমৃদ্ধ।


বৃটিশ লন্ডনে বসে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের ইতিহাস গৌরবোজ্জল ও সমৃদ্ধ। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পিতা মুজিব লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর ইতিহাসও কম গৌরবের নয়।

এই নিরিখে বৃটেনে অবস্থানরত বাঙ্গালিরা আজ তাদের ঐতিহ্য রক্ষায় কেন দোনা মোনা করছেন? বর্তমান সময়ে বৃটেন সরকারে বাঙালীদের প্রতিনিধিত্বও খুব শক্তিশালী। কিন্তু সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও কম শক্তিধর নয়। বরং, মুক্তিযুদ্ধপক্ষীয়রা বহুধাবিভক্ত।

 

গ্রেট বৃটেনের প্রত্যেক প্রদেশে আওয়ামীলীগের কমিটি আছে। বৃটেনে কেন্দ্রীয়ভাবেও আওয়ামীলীগের কমিটি আছে। প্রতিটি কমিটি খুব শক্তিশালী। তবে তারা নিজেরা নিজেদেরকে ঠেকাতে খুব হেডমওয়ালা। প্রতিটি গ্রুপ বিরাট বিরাট সভা করে একে অপরের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বৃটেন সফরে গেলে সবাই এক জায়গায় আসে, তবে আলাদা আলাদা গ্রুপ করে। সভানেত্রীর সাথে মুহুর্মুহু ছবি তুলতে ভিড় করে। সভা শেষে কেউ কেউ নাকি সভানেত্রীকে একে অপরের বিরুদ্ধে বিচার ও দেয়। যা নেত্রী মোটেও পছন্দ করে না।


আবার, এই বৃটেনেই বাস করে বাংলাদেশের কুখ্যাত অপরাধীরা। এই অপরাধীদের শক্তি ও টাকার অভাব নাই। বৃটেন সারা বিশ্বে সভ্যতার ছবক দিলেও নিজেরা এই সব অপরাধীদের নিরাপদে আশ্রয়প্রশ্রয় দেয়। কথার মারপ্যাঁচে রাজনীতি করার সুযোগও দেয়। তাদের নিরাপত্তাবিধানও করে। বৃটেন নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী মোড়লীপনা বিস্তারের স্বার্থে অপরাধী তৈরিও করে জেনেছি। ওসামা বিন লাদেনকে সামরিক প্রশিক্ষণ, জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধকরণ বৃটেনই করেছে নাকি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মইনুদ্দিন থেকে হালের ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককেও বৃটেনে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি ওখানে বসে বাংলাদেশ বিরোধী জঙ্গী কর্মকান্ডের তদারকি করছেন। ইজরায়েলি উকিল কার্লাইলও বৃটেনে থেকেই রাজ্জাকদের আইনি পরমর্শ দেয়।


বৃটেনে অবৈধভাবে বসবাস করছেন সাবেক সামরিক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেনেড সন্তান তারেক রহমান। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা, ফেইসবুক, টুইটার, গুগলে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখা যায়। একইভাবে আরেক যুদ্ধাপরাধী লুলা মুসা ওরফে মুসা বিন শমসের বৃটেনে বসবাস করে সারা বিশ্বে অস্ত্র ব্যবসা করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। সেও বৃটেনে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন ও নাক গলাতে চায়। তার এক শাবককে বাংলাদেশের রাজনীতিক বানাতে পাকিস্তান-ফেরত স্বৈরাচার এরশাদের পার্টিতে নাম লেখায়। সে আবার আওয়ামীলীগ এর এক বড় নেতার বেয়াইও।


প্রশ্ন বাংলাদেশ বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, আওয়ামীলীগ বিরোধী কর্মকান্ডে এরা প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক অপকর্ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে বৃটেন আওয়ামীলীগ এর ভুমিকা কি?


মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকায় লেখা হয় অমুকের বিরুদ্ধে বৃটিশ সরকার বৃটিশের পাতাল রেলে নাশকতামুলক কর্মকান্ডের জন্য মামলা হয়েছে, পুলিশ তাদের খুঁজছে, এসব খবর আমরা পড়ে উল্লসিত হই; কিন্তু কোন পদক্ষেপ দেখিনা।


বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বৃটেনের নাগরিক ও বৃটেনের কুটনীতিক আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলা হয় সিলেটে। এই হামলার পেছনে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এই খবরও বিবিসি প্রচার করেছে। বৃটেন সরকারও স্বীকার করে। বাংলাদেশের জঙ্গি দলগুলোও উপযুক্ত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত-পালিত। তাদের ইন্ধনে আনোয়ার চৌধুরী ও সারাদেশে ১৭আগস্ট একযোগে বোমা হামলার ড্রেস রিহার্সেল এটি বৃটেনও বিশ্ব জানে। এর পর তারেক রমানের তত্তাবধানে ২১শে আগস্ট আওয়ামীলীগ এর সমাবেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্যেশে গ্রেনেড হামলা। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে যান।


এই গ্রেনেড হামলার তদন্ত করার জন্য বৃটেনের চৌকশ গোয়েন্দা পুলিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, ইন্টারপোল এসে তদন্ত করেছে। তারাও তদন্ত প্রতিবেদনে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্রিয় মদদে জঙ্গি সন্ত্রাস বলে উল্লেখ করেছে। এবং তারেক রহমানকেও ঈঙ্গিত করে রিপোর্ট পেশ করেছে। এসবকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য তারা কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে জাতিসংঘ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘে লবিস্ট নিয়োগ করে। তারা তাদের অপরাধ ঢাকতে নিজেদের উদার করে, এবং তাদের দলীয় লোকজন ও এককাট্টা হয়ে কাজ করে।


কিন্তু বৃটেনে বসবাসরত বাঙ্গালি ও আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা কি করে? তারা কি শুধু শুধু একে অপরের সাথে ঝগড়া করতেই থাকবে? বৃটেন সরকারে আওয়ামীলীগ সমর্থিত যে ক'জন বাঙ্গালি এমপি আছেন তাদের কি ভুমিকা? বৃটেনে যখন বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা হয়, জাতির পিতার ছবি অপমানিত হয়, সেই সব মামলার অগ্রগতি ও আসামীদের অপরাধ প্রমাণের অগ্রগতির জন্য এমপি ও অন্যান্য স্থানীয় সরকারে বাঙ্গালি প্রতিনিধিরা কি করে জানার আগ্রহ আছে বাংলাদেশিদের, আওয়ামীলীগ এর অন্তপ্রাণ কর্মীদের।


বৃটেনে কিন্তু আওয়ামীলীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেরও কমিটি আছে। তাদের ভুমিকা কি?


আমিতো দেখি যারা কোন কমিটিতে স্থান পায়নি, আবেগে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনাকে যারা ভালোবাসে প্রাণের অধিক; তারাই শুধু অনলাইন অফলাইনে সোচ্চার। আর একজন আছেন ভাষা সৈনিক, কবি, কথাসাহিত্যিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী।


যদি না পারেন, ছেড়ে দিন আওয়ামীলীগের পদ-পদবী। সব কিছুই যদি শেখ হাসিনাকে একাই মোকাবেলা করতে হয়, তাহলে আপনাদের কাজ কি?


বৃটেনস্থ বাঙ্গালী, বাংলাদেশপ্রেমী, মুক্তিযুদ্ধ প্রেমী, আওয়ামীলীগ সমর্থক, পিতা মুজিব ও শেখ হাসিনা কে যদি মন প্রাণে ভালোবাসেন, আর নিজেরা ঝগড়াঝাটি না করে ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের নিজেদের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বার্থে বাংলাদেশ বিরোধী, বাংলাদেশের শান্তি অগ্রগতি বিরোধী প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের অপরাধের বিবরণ তুলে ধরুন। তাদেরকে আশ্রয় পশ্রয় না দিয়ে আইনের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করুন।


এসব অপরাধীদের বৃটেনবাসী যেনো বয়কট করে তার জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। এই কাজ শুধু বৃটেনস্থ বাঙ্গালি ও আওয়ামীলীগ এর নেতাদের উপর দায়িত্ব দিলে হবে না। এগিয়ে আসতে হবে সর্ব-ইউরোপীয় আওয়ামীলীগকেও; যার যার অবস্থান থেকে।


আসুন, বাংলাদেশে অবস্থানরত আপনাদের মা বাবা, ভাই বোন, স্ত্রী, স্বজনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিদেশেই আপনাদের অবস্থানকে সক্রিয় করতে হবে। আপনাদের প্রয়োজনের স্বার্থে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে মদদ দাতাদের সর্বস্থরে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।


লেখক - সাবেক নির্যাতিত ছাত্রনেতা ,১১অক্টোবর ২০১৮



আরও পড়ুন

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

শিক্ষা ও মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এগোতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অস্ত্র আর ...

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

নির্বাচনে কারচুপি হলে কেন প্রতিহত করলেন না : বিএনপিকে নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থীদের মামলা প্রসঙ্গে ...

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

অভিন্ন পদ্ধতিতে হবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকের আদলে অভিন্ন পদ্ধতিতে উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ...

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

‘ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস পর কেন শিশু দিবস?’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঠিক ৯ মাস তিন দিন পর কেন ...

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এসে পৌঁছেছে দেশে

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ...

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

তিন দিনে ৪ মুসল্লির মৃত্যু বিশ্ব ইজতেমার মাঠে

গেল তিন দিনে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ...

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত বিলুপ্তির পরামর্শ দিয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ

জামায়াত ইসলামিকে বিলুপ্ত ঘোষণা ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ...