সম্পাদকীয়

  • সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

    সৃজনশীল আইডিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব

  • ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

    ঐক্যফ্রন্ট কতৃক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ - কৌশলে পরাজিত

  • পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

    পুঁজিবাদী প্রেমের নামে অশ্লীল প্রেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ঢাবি ছাত্ররা

  • ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

    ফাগুন হোক বাঙ্গালীর ভালোবাসা দিবস। আসুন ভালোবেসে ফুলদি শহীদ চরণে।

  • নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

    নিরাপদ খাদ্যের জন্য ক্রুসেড!

নির্বাচনে মাদারির খেল দেখাবার ষড়যন্ত্রে দূর্নীতিবাজ ও জামায়াতী আমলারা !

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মো: মাহমুদ হাসান

১৯৯১তে বিবিসি সহ সকল দেশী-বিদেশী গণমাধ্যম বলেছিলো, বিএনপি ৩০টির বেশি আসন পাবে না; আমলারা অপখেলা খেলেছিলেন। "ক্যান্সেলড মাই লাষ্ট অ্যানাউন্সম্যান্ট" হিসেবে পরিচিত এরশাদ সাহেবের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এম কে আনোয়ার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি রাজনৈতিক দল হতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়নি। এরপর উনি কি মাদারির খেল খেলেছিলেন, তা কেউ খুঁজে দেখার তাগিদ অনুভব করেননি। ২০০১ এর সালসা নির্বাচনে কিভাবে জঙ্গি মদদদাতাদের নির্বাচনে জেতানো হয়েছিলো, তাও কেউ অনুসন্ধান করেনি।


সেই সাহসের সূত্র ধরেই ২০১৮তেও দূর্নীতিবাজ, জঙ্গি মদদদাতা ও জামায়াতী আমলারা ১৯৯১ ও ২০০১ সালের মতো নানা অপখেলার মাধ্যমে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনার নগ্ন খেলায় কাজে লেগে গেছে।


জামায়াত ও শিবির স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে এবং তাদেরই কৌশলগত ফ্রন্ট হিসেবে খোলা বাহারি নামধারী সাইনবোর্ড ও প্যাড সর্বস্ব ইসলাম রক্ষার বরকন্দাজ পরিচয়ারী ছোট ছোট সংগঠনের নমিনেশনে ও মার্কা নিয়ে ২০১ আসনে বিজয়ের টার্গেট নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবে। জাময়াত এমন সব ব্যক্তিকে নির্বাচনী ময়দানে নামাবে; যাদের প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবির লেবেল নেই, নেই কোন মামলা তাদের নামে।


বরং, (১) অমুক মসজিদে দুইটা ফ্যান দিয়েছে প্রকাশ্যে, মসজিদ কমিটিতে থাকা টাউটদের গোপনে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা, এলাকার সাথে, জনগণের সাথে কোন যোগাযোগ না থাকলেও পেশাদার টাউটদের মাধ্যমে তাদের নাম ছড়িয়ে আছে একেকটি নির্বাচনী এলাকার আনাচে-কানাচে। (২) ব্যাঙ্কে চাকুরির সুবাদে অমুক এলাকায় ব্যাঙ্কের টাকায় একটা কালভার্ট করেছে, দুইটা ছাত্রকে বৃত্তি পাইয়ে দিয়েছে, হাসপাতালে চাকুরির সুবাদে বিনা খরচে একজনের চিকিতসা করিয়ে দিয়েছে; আর এসবের প্রচারের জন্য কয়েকশ কর্মীকে দিয়ে প্রচার করিয়েছে ও আরো করাবে। (৩) সরকারি চাকুরির সুবাদে অমুক চেয়ারম্যানের মামলা খেয়ে ফেলেছে, অমুক মেম্বারকে জেলে পাঠিয়েছে, একটা স্কুলে দুইটা আলমারি দিয়েছে। ------ এমন সব বাহারি কর্মের সুবাদে এলাকায় আপাত:দৃষ্টিতে বাক্কা বেডা/হেডমওয়ালা/বিরাট ক্ষমতাশালী প্রচারণা রয়েছে ---- এমনি সব ব্যক্তিদের নির্বাচনে মাঠে প্রার্থী করিয়ে মাঠে নামবে জামায়াত ।


প্রশ্ন আসতেই পারে, এরা তো ভালো মানুষ; আওয়ামী লীগ যদি চিহ্নিত দূর্নীতিবাজদের মনোনয়ন দেয়, তাহলে সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এমপি হলে দোষের কি ? আর আমলারা ভালো মানুষকে এমপি বানানোর নগ্ন খেলায় মেতে উঠলে সমস্যাই বা কোথায়?


সমস্যাটা কোথায় জেনে নিতে এক অবসরপ্রাপ্ত আমলার উদাহরণ দেই, উনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, কক্সবাজার ও চকরিয়া এলাকায়। ওনার প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় কক্সবাজার ও চকরিয়ার ধর্মপ্রাণ মানুষ ও তাদের সন্তানেরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়। এক পর্যায়ে ওরা কতো ভয়াবহরূপে বিস্তার লাভ করে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তা দেশবাসী হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এক পর্যায়ে উনি গেলেন কুখ্যাত রাজাকার ব্যারিষ্টার আমিনুল হক এর ইচ্ছায় গোদাগাড়িতে। গড়ে তুললেন, গোদাগাড়ির চরাঞ্চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সারা দেশে শুধু নয়, মার্কিনীদের প্রচারণায় সারা বিশ্বে খ্যাতি লাভ করা "বাংলাভাই" এর সঙ্গীসাথীরা প্রথম সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় ঐ আমলার গোদাগাড়ি অবস্থানকালে গোদাগাড়ির চর এলাকায়; একই সময়ে ওনার প্রত্যক্ষ মদদদে গড়ে ওঠা জঙ্গিরা বিশাল অস্ত্রের চালান সহ ধরা পড়ে কক্সবাজারের এক খালে, যে অস্ত্রের চালানটি যাওয়ার কথা ছিলো মুফতী শহিদুল ইসলাম এর বান্দরবনের জনমানবহীন এলাকাসমূহে গড়ে তোলা জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে। ---- অথচ এই আমলা ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সত হিসেবেই কর্মজীবনের যেখানেই গেছেন, সেখানেই পরিচিতি পেয়েছেন। উনি টাকার অভাবে কাকরোল পাতার ভর্তা দিয়েও ভাত খেতেন পিয়ন-কেরাণীদের দেখিয়ে। এক উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের কোন দেয়ালে দেয়াল লিখন লেখা যাবে না, ওনার কড়া নির্দেশ ছিলো। অথচ, ওনার সরকারি বাসায় শিবির কর্মীদের রেখে ১৯৯১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত প্রার্থীর ভোট চেয়ে দেয়াল লিখন লিখিয়েছিলেন উনি। কর্মজীবনে ওনার বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিলো বলে জানা যায়, (ক) "উপজেলা পরিষদ ভবনে ওড়ানোর জাতীয় পতাকাটি ছিড়তে ছিড়তে তিন-চতুর্থাংশ হওয়ার পরেও তিনি কৃচ্ছতা সাধনের নামে তা পাল্টাবেন না বলে গোঁ ধরেছিলেন, যা জেলা প্রশাষক মহোদয়কে জানানো হয়েছিলো অপারগ হয়ে--ওনাকে বারবার বলেও প্রতিকার না হওয়ার পর"; (খ) শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের উনি শহীদ বলতে রাজী নন, তার উপস্থিতিতে কোন সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ বলা যাবে না-- এমন নির্দেশনার পর জেলা প্রশাষক মহোদয়কে জানানো হয়েছিলো, শাস্তি কি হয়েছে,তা জানা যায়নি কোনদিনও।


এমন বহু আমলা এখনো প্রশাষনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গেছে, যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোন নির্দেশনাও মানতে রাজী নন। তারা এখনো স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ ভূখন্ডকে হয় পাকিস্তানের না হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানাবেনই। এরা ১৯৯১ সাল ও ২০০১ এর ১৫ই অক্টোবরের সালসা নির্বাচনের মতোই ""বামে এক বসানো রেজাল্ট শীট""" বানানোর নির্বাচন করবেন এমন প্রত্যাশায় দিন গোজরান করছেন। ----- যা ভাইবার মান্না হিসেবে পরিচিত ইসলামী ছাত্র সংঘের সাবেক এক কর্মীর মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে, """নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক, আওয়ামী লীগ জিতবে না""" ।


যার যার অবস্থান হতে বোধোদয় হোক !


জঙ্গি-রাজাকার-মাফিয়া-ইয়াবা-দূর্নীতিবাজ-ধর্ষকরা ও তাদের রক্ষার চেষ্টাকারিরা নিপাত যাক !

ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ নিরাপদ থাক !!


মো: মাহমুদ হাসান (১৯৮২-৯০ সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সৈনিক, ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ- ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮, সময়-সন্ধ্যা ৬.২৫ মিনিট।

আরও পড়ুন

ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ: সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা ও ৩০ অস্ত্র জমা

ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ: সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা ও ৩০ অস্ত্র জমা

আত্মসমর্পণ করেছেন টেকনাফের ১০২ জন ইয়াবাকারবারি। শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ...

পায়রায় ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি

পায়রায় ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি

জার্মানিতে সিমেন্স এজির সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নর্থ ...

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো যোবায়েরপন্থিদের ইজতেমা

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো যোবায়েরপন্থিদের ইজতেমা

টুঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আখেরি মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ ...

প্রধানমন্ত্রীকে ৯৮ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রীকে ৯৮ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিনন্দন

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় অর্জনের ...

মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটিতে সালাউদ্দিন-মাশরাফি

মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটিতে সালাউদ্দিন-মাশরাফি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটিতে ডাক পেয়েছেন ...

ড. ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী আজ

ড. ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী আজ

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ...

থেমে গেল অবিনশ্বর কবিকণ্ঠ

থেমে গেল অবিনশ্বর কবিকণ্ঠ

'কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি। সেতো ভেসে ওঠা ম্লান/ আমার মায়ের ...

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরে আসার শর্তে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার “প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০১৯” ঘোষণা করেছে যার আওতায় ...