সম্পাদকীয়

  • বেঈমানের রক্ত এবং বর্তমান বাংলাদেশ

    বেঈমানের রক্ত এবং বর্তমান বাংলাদেশ

  • ড.কামাল এখন বিএনপির, হেরে গেলেন বি.চৌধুরী

    ড.কামাল এখন বিএনপির, হেরে গেলেন বি.চৌধুরী

  • অভাবিত বা অপ্রত্যাশিত ছিলনা

    অভাবিত বা অপ্রত্যাশিত ছিলনা

  • ডঃ ও ডাঃ বিচ্ছেদ পর্ব: হায় হোসেন

    ডঃ ও ডাঃ বিচ্ছেদ পর্ব: হায় হোসেন

  • বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে না কেন?

    বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে না কেন?

বঙ্গবন্ধু'র অমিত সাহস যুগেযুগে অশুভের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা যোগাবে

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০১৮

রুহুল আমিন মজুমদার,উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

বছর ঘুরে আগষ্ট মাসটি আবার ফিরে এসেছে৷ মাসটি বাংলাদেশ বাঙ্গালী জাতীর আবেগের মাস, শোকের মাস, উপলব্দি'র মাস, ষড়যন্ত্রের মাস৷ এই মাসটি বাঙ্গালী জাতী'র হাজার বছরের সাধনার পর--'মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অঙ্গিকার সমূহ,পূণঃরায় সামরিক জান্তার বুটের নিছে পৃষ্ট হওয়ার মাস৷ অন্যদিকে  মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত অশুভ দেশবিরোধী শক্তির পূণঃজম্মের মাস, পরাজিত মৌলবাদী  সাম্প্রদায়ীক শক্তি'র উত্থানের মাস, বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী জাতী বিরোধী শক্তি'র বিজয়ের মাস৷

 এই মাসেই হারিয়েছে বাঙ্গালী জাতী তাঁর জাতীয়তাবোধের উম্মেষদাতা, বাংলাদেশ হারিয়েছে তাঁর স্বপ্নদ্রষ্টা৷ মাসটি'র নাম মনে হলে প্রতিটি বাঙ্গালী তাঁর মনের অজান্তে হৎচকিত হয়ে উঠে, হৃদয় বিগলীত বোবা কান্নায় মন ভারী হয়ে উঠে৷ বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালী জাতী'র অস্থিত্ব যত শতাব্দি এই বিশ্ব ব্রমান্ডে থাকবে, তত শতাব্দি বাঙ্গালী জাতীর হৃদয়ে অব্যর্থ কান্নার সুর বাজতে থাকবে৷

   

এই মাসে হারিয়েছে বাঙ্গালী জাতীর হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সিংহ পুরুষ, অকুতোভয় লড়াকু বীরযোদ্ধা, নিরহংকারী, নির্লোভ, অসীম ব্যাক্তিত্ব, সূদুররপ্রসারী জ্ঞান সমৃদ্ধ যুগশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী দার্শনিক৷-যিনি বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একাধারে বাঙ্গালী জতীর স্বতন্ত্র জাতীসত্বার অস্থিত্ব, স্বতন্ত্র ভুখন্ড, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ, নীতি ও আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন৷ তিনি ছিলেন বাঙ্গালী জাতীর হাজার বছরের আরাধনার চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসরমান চিন্তাচেতনার অধিকারী পরিপক্ক রাজনীতিবীদ,  ক্ষনজম্মা এক  মহাপুরুষ--ভয় কি,তা তিনি বুঝতেন না৷ তিনি ছিলেন লোভ লালসার অনেক উধ্বে অতিমানবীয় গুনাবলীর অধিকারী বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী,কালোতির্ন বিচক্ষন রাজনীতিবীদ৷ 

   

তাঁর জম্ম হতে মৃত্যু অবধি সামগ্রিক জীবন--"বাঙ্গালী জাতীর ইতিহাসে এক অনবদ্য মহাকাব্যের অজস্র কবিতার, অসংখ্য পংক্তিমালায় সাজানো৷ যে কবিতার প্রতিটি শব্দরাশি---যুগে যুগে বাঙ্গালী জাতীর সমস্যা সংকট, দুঃখ্য দুর্দশা'র উত্তররণ ঘটিয়ে আলোর পথ দেখাবে৷

   

সামসাময়ীক বিশ্বের প্রতিতযসা রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, রাষ্ট্র প্রধান এবং সরকার প্রধানদের বিভিন্ন সময়, যে সমস্ত বর্ণনা, উক্তি করে গেছেন--প্রজম্ম থেকে প্রজম্মান্তরে বাঙ্গালী জাতীকে করে তুলবে শিহরীত,  আবেগাপ্লুত, গর্বিত৷ তাঁর খুনীচক্রের বিরুদ্ধে যুগযুগান্তর প্রজ্বলীত থাকবে ঘৃনার বহ্নিশিখা৷এমন দুটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন প্রখ্যাত কলামিষ্ট একুশে গানের রচয়িতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব--জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরী, তাঁর সমসাময়িক নিবন্ধে৷ 

   

তিনি বলেন--জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মত অংশ গ্রহনের জন্য বাংলা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পথে, যাত্রা বিরতিতে পাকিস্থানের বিমান বন্দরে অবতরন করেন।বিমান বন্দরে যথারীতি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সমাপ্তির পর শহরে অতিথি ভবনে যাবেন।গাড়ী প্রস্তুত ছিল৷  কিন্তু দেখা গেল গাড়ীতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নেই।বঙ্গবন্ধু সেখানেই থেমে গেলেন৷  তিনি স্পষ্ট ঘোষনা দিলেন--বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাহীন গাড়ীতে তিনি শহরে যাবেন না। উপস্থিত পাকিস্থানের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারী দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন হতবিহব্বল, হৎচকিত, কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে গেলেন। তৎক্ষনাৎ তাঁকে বহন করা নির্দিষ্ট গাড়ী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়৷ তারপরই তিনি গাড়ীতে উঠে বসেন৷  পাকিস্থানের প্রখ্যাত এক সাংবাদিক তৎক্ষনাৎ মন্তব্য করে বলেছিলেন--বাংলাদেশের নেতা এ, কে, ফজলুল হককে সাহসীকতার জন্য শেরেবাংলা  উপাধিতে ভূষিত  করা হয়েছিল৷ বাংলাদেশের জাতীরজনক বঙ্গবন্ধু তাঁর চেয়ে আরও অধিক সাহষী ও শক্তিমান। তিনি আপসোশের সুরে বলেছিলেন--"পাকিস্থান যদি এমন একজন নেতা পেত একদশকের মধ্যেই দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠ দেশ পাকিস্থান'ই হত।

   

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ছয় দফা সবেমাত্র প্রনয়ন করেছেন।তখনও তিনি বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেননি।১৯৬৫ ইং সালের পাকভারত যুদ্ধ শুরু হয়। মাত্র ১৭দিনের যুদ্ধে পুর্ব পাকিস্থান সম্পুর্ন অরক্ষিতই থেকে যায়৷  যদিও সামরীক ব্যায়ের বেশী'র ভাগ পুর্ববঙ্গ'কে যোগান দিতে হত৷ তাছাড়া অন্যসব ক্ষেত্রেও ছিল আকাশপাতাল ব্যবধান এবং শোষন বঞ্চনা। পাকিস্থানের অন্যতম জনবসতিপুর্ণ প্রদেশের প্রতি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের এমন অবহেলা শেখ মজিবুর রহমানকে ব্যথিত করে তুলে। তিনি পুর্ববাংলা শোষন বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষে ছয় দফা দাবীনামা প্রনয়ন করেন৷  তিনি সিন্ধান্ত নেন--আগামি লাহোর বৈঠকেই তিনি এই ছয় দফা, পুর্ব পাকিস্তানের পক্ষে উত্থাপন করবেন। তাঁর আগে সকল দল ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে ছয় দফার প্র‍য়োজনীয়তা এবং বাঙ্গালীর সার্বজনীন দাবীতে রুপান্তরের লক্ষে পুর্ববাংলার বুদ্ধিজীবি মহল ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহের মতামত গ্রহন করার প্রয়োজনীতাও তিনি অনূভব করেছিলেন৷ 

   

তিনি প্রথমেই আলোচনার জন্য গেলেন দৈনীক ইত্তেফাকের তৎসময়ের বার্তা সম্পাদক, জনাব সিরাজ উদ্দিন হোসেন সাহেবের নিকট।হোসেন সাহেব বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। তাঁর সাথে আলোচনা শেষে গেলেন ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পিতা--জনাব তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সাহেবের নিকট। তিনি তখন পাকিস্থানের পুর্বাংশের প্রতিষ্ঠিত, প্রতিযশা বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অন্যতম বিবেচিত ছিলেন৷ ঐ বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়--পাকিস্তানের পূর্বাংশের বিদ্যমান সকল দলের সাথে ছয়দফা নিয়ে আলোচনা করবেন৷  আলোচনার জন্য বৈঠক ডাকার দায়িত্ব নেন মানিক মিয়া নিজেই৷  তিনি তাঁর ঘনিষ্ট সহচর জনাব মোতাহের হোসেন সাহেবকে দায়িত্ব দেন৷ তিনি সবাইকে নৈশভোজের দাওয়াত দএন তাঁর বাসভবনে৷  কালের সাক্ষী সেই ভবনটিতে বর্তমানে আনোয়ার  হোসেন মঞ্জু সাহেব বাস করেন৷


যথারীতি নিমন্ত্রিত অতীথিদের মধ্যে সবাই এসেছেন-খাওয়া দাওয়া শেষে দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হলো। আলোচনার একপয্যায় বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রনীত ছয় দফা উত্থাপন করেন এবং তাঁর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন৷ বক্তৃতার শেষপয্যায়ে ছয়দফার প্রতি তিনি উপস্থিত সকলের সমর্থন কামনা করেন। বৈঠকে সরওয়ার্দী সাহেবের মেয়েও উপস্থিত ছিলেন। সরওয়ার্দি সাহেবের মেয়ে তাঁর মতামতে বললেন--এই দাবী পাকিস্তানের উভয় অংশকে বিচ্ছিন্ন করবে, ছয়দফা আমার কাছে গ্রহযোগ্য নয়৷ উপস্থিত কারো কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া না পেয়ে সরওয়ার্দী সাহেবের মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে  বঙ্গবন্ধু বলেন--যুক্তবাংলার দাবী যদি প্রতিষ্ঠিত হত, তাহলে আজ আমাদের এই বৈঠকের প্রয়োজন হতনা৷ বাঙ্গালী'রা পাঞ্জাবীদের গোলামী করার প্রয়োজনও হতনা৷


আপনারা  সবাই যখন বলছেন--ছয়দফা উত্থাপন করে কেউ ফিরে আসতে পারবেন না, আপনাদের সবাইকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়  ফাঁসিতে ঝুলাবে৷ আমি মুজিব মৃত্যুভয় করি না--"বাংলার মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, পুর্ববাংলার আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার আদায়ে প্রয়োজনে ফাঁসিতে ঝুলবো৷ পশ্চিম পাকিস্তানের গোলামীর জিঞ্জির আমি ভাঙ্গবো'ই ভাঙ্গবো  ছয়দফা থেকে পূর্ব বাংলার জনগন এক চুল পরিমাণও সরে আসবে না৷

   

ছয়দফা দাবী নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিলেন৷ পুর্ব পাকিস্তানের অন্যকোন দলের সমর্থন ব্যাতিত তিনি একা, তাঁর দলের পক্ষে ছয়দফা উথহাপন করেন৷ ছয় দফা উত্থাপনকালে তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতায় তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন--"এই ছয়দফা পুর্ববাংলার জনগনের প্রানের দাবী৷ এই দাবি আদায়ের জন্য পুর্ববাংলার মানুষ প্রয়োজনে রক্ত দেবে, তারপরও আপোষ করবেনা৷ এই ছয়দফা দাবী যদি মানা না হয়, তাহলে বাংলার মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে    দাবি আদায় করে ছাড়বে, ইনশাল্লাহ।

 

পশ্চিম পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে, বাঘের মত গর্জন করে মুজিব বৈঠক ত্যাগ করে বের হয়ে আসেন। পাকিস্তানের উভয় অংশের নেতাগন বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ছয়দফা দাবীর প্রতি এমন দৃড় মনোভাবে অশনি সংকেতের ইঙ্গিত অনুভব করেন৷ পশ্চিমাঞ্চলের  নেতাগন বেঠকের আকস্মিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অনেকটা হতবম্ভ, হতচকিৎ, কিংকর্তব্য বিমূঢ হয়ে পড়েন৷ 

       

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী। তিনি সময় সময় প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের অনুপস্থীতিতে ভারপ্রাপ্ত  প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব  পালন করতেন৷ ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং বঙ্গবন্ধু কোলকাতায় একই কলেজে লএখাপড়া করেছেন৷ রাজনৈতিক আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্বেও ব্যাক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল দুইজনের খুবই নিবিড়৷  ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খাঁন জানতেন তাঁদের দুইজনের গভীর সম্পর্কের ব্যাপারটি৷  ছয় দফা নিয়ে পাকিস্তান সরকার এতই বিব্রতকর  ছিলেন যে--একদিন ফজলুল কাদের চোধুরীকে প্রেসিডেন্ট একান্তে ডেকে মুজিব সম্পর্কে আলোচনায় বসেন৷ 

 

 একপয্যায় আইয়ুব খাঁন বলেন--আমি জানি আপনার সাথে মুজিবের সম্পর্ক খুব চমৎকার৷ আপনি   আমার ব্যাক্তিগত একাউন্টের একটি ব্লাংক চেক নিয়ে মুজিবের সাথে দেখা করেন৷  তাঁকে বুঝিয়ে বলেন-- সে যেন ছয় দফা ত্থেকে সরে আসে।.তাঁরপর মুজিবের যতটাকা প্রয়োজন ততটাকা লিখে, ব্যংক থেকে টাকা নিয়ে যাবে। প্রস্তাব নিয়ে ফজলুল কাদের বঙ্গবন্ধুর ৩২নং বাড়িতে যান৷দুই বন্ধু'র কৌশল বিনিময়ের পর একান্ত ঘনিষ্টভাবে ফজলুল কাদের চৌধুরী তাঁর মূল  প্রস্তাব উত্থাপন করে বঙ্গবন্ধুর মতামত জানতে চাইলেন৷ 

  বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন--"আপনি আমার দীর্ঘদিনের আপনজন,একান্ত বন্ধু৷ যদি তাই না হতেন--আমি আপনাকে আমার বাড়ী থেকে বের করে দিতাম।আপনার প্রেসিডেন্টকে বলে দিবেন--মুজিব সারা পৃথিবি এনে দিলেও বাঙ্গালী'র স্বার্থের সাথে বেঈমানী করবে না। মুজিবকে টাকা দিয়ে কেনা যাবে না, মুজিব টাকায় বিক্রি হয় না। ফজলুল কাদের চৌধুরী পরবর্তিতে তাঁর স্মৃতিচারন করতে গিয়ে মুজিবের এই কথাটি তাঁর ঘনিষ্টজনদের কাছে অনেক বার প্রকাশ করএছেন৷ 

     

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল-বাঙ্গালীজাতী স্বাধীনচেতা জাতী হয়ে পৃথিবীর বুকে মায্যদার সহিত বেঁচে থাকবে। বাঙ্গালী জাতীর আলাদা স্বাধীন সার্বভৌম একটি ভুখন্ড থাকবে। সেখানে কোন শোষন বঞ্চনা থাকবে না, কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। তাঁর লালিত স্বপ্ন তিনি প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন--শত অত্যাচার নিপিড়ন, জেল জুলুম তাঁর পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। যখন যাহা করার প্রয়োজন মনে করেছেন তখন তাই করেছেন৷  তিনি কাউকে ভয় করতেন না, কোন কথা গোপন করতেন না। বুকে ছিল অসীম সাহস, চরিত্র ছিল নির্মোহ, নির্লোভ৷ রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে তাঁর জীবদ্দশায় আপোসের কোন ইতিহাস চোখে পড়েনা৷

   

সারা পৃথিবী তন্নতন্ন করে খোঁজে  ভেড়ালেও কোন একটা জাতীর স্বাধীনতার ইতিহাসে এত ত্যাগ, এত শ্রম, জেল জুলুম, হুলিয়া, নিপীড়ন নিয্যাতন সহ্য করেছেন পাওয়া যাবেনা৷  পৃথিবীর সব দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যদি এক জায়গায় জড়ো করা হয়-তাহলেও এমন একজন নেতা  পাওয়া যাবে না যিনি তাঁর জাতীর কল্যান ভাবনায় তাঁর পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন প্রায় সকলকে কোরবানী দিয়েছেন।

 

এমন একটি জাতি ও পাওয়া যাবেনা--যে জাতি একনেতার দিক নির্দেশনায় স্বল্প সময়ে এত রক্ত ঢেলে স্বাধীনতার সুয্য ছিনিয়ে এনেছে৷ বঙ্গবন্ধু ছিলেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাক্তিত্বের অধিকারী--যখন যে দিকেই আঙ্গুলের ইশারা করেছেন, সেই দিক থেকেই জনগন জয় ছিনিয়ে এনেছে। তিনি ছিলেন বিচক্ষন, সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনার অধিকারী, উঁচু মাপের  সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন নেতা৷স্বপরিবারে জাতির জনককে হত্যার পর বিশ্বের তাবৎ মনীষিগন স্তম্ভিত হয়ে শুধু একটি বাক্যই উচ্ছারন করেছিলেন-'বাংলাদেশ একজন মহামানব, সমাজ সংস্কারক হারাল।বিশ্বহারাল শোষিত বঞ্চিত মানুষের মহান নেতা।

 

১৬ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইং বি,বি,সি বাংলা থেকে সেদিন সর্বক্ষন শুধু বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, তাঁর যুগশ্রেষ্ঠ নতুন দর্শন 'বাকশাল' নিয়েই আলোচনা করেছে। তাঁরা নীজেরাই স্বীকার করে বলেছে--বৃটিশ শাসনের পর তাঁদের রেখে আসা আইন কানুন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, যোগপযোগী করার দু:সাহষ আর কোন নেতাই দেখাতে পারেনি এবং কি মহাত্মা গান্ধীজিও না। 

 

দীর্ঘ শাসনে অভ্যস্ত সেই আইন কানুন পরিবর্তন অবশ্যই কঠিনতম পদক্ষেপ। সেই কঠিন এবং কন্টকাকীর্ন কাজটি করার পদক্ষেপ নিতে পেরেছিলেন একমাত্র যুগশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷ তিনি মনেপ্রানে বাঙ্গালী, বাংলাদেশকে ভালবাসতেন বলেই জীবনবাজী রেখে দেশকে স্বাধীন করার প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন। তেমনি 'বাকশাল' গঠন করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক আইনকানুন প্রবর্তন করে দেশ ও জাতীকে ''উন্নত সমৃদ্ধ' করার প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন৷

   

 জাতির জনকের অকাল মৃত্যুর পর দেখতে দেখতে কেটে গেল ৪৮টি বছর। আজও কি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে বৃটিশদের রেখে যাওয়া আইন কাঠামো? আজও কি বিচারের বানী নির্বিত্তে কাঁদেনা? আজও কেন স্বচ্ছ বিচারের আশায় ট্রাইবুনালের উদ্যোগ গ্রহন করার প্রয়োজন হয়? আজও কি সমাজের সর্ব অঙ্গে দুর্নীতির কালোছায়া দূর করা সম্ভব হয়েছে? আজও কি দেশের সম্পদ লুটপাট করে আঙ্গুলফুলে কলাগাছ হচ্ছেনা? আজও কি শ্রমিক তাঁর ন্যায্য মুজুরীর জন্য রাজপথে তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হচ্ছেনা? আজও কি কৃষক সারের দাবী করতে গেলে তার বুকে গুলী চালানো হয়না?আজও কি বন্ধ হয়েছে সরকারী অর্থ আত্বসাৎ৷ দুর্নীতি  করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার দৃষ্টিকুটু প্রবনতা কি কমেছে?

   

স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দি পরেও কেন নিরাপদ সড়কের দাবীতে মাসুম বাচ্চারা আন্দোলনে রাজপথে নামতে হয়? কারা মাসুম বাচ্চাদের আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছে? কি তাঁদের উদ্দেশ্য? সমাজ সচেতন ব্যাক্তি, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যাক্তিবর্গ অবশ্যই চিন্তা করবেন৷ অবশ্যই তাঁরা জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে  লৌহকঠিন শপথ নিবেন৷ 

 

পরিবর্তন মানুষ সহজ ভাবে মেনে না নেয়ার অভ্যেস চিরায়াত। সভ্যতা বিকাশের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি বাঁকে রয়েছে লক্ষ মানুষের রক্তের দাঁগ৷ সমাজ জীবনকে পেছনে নেয়ার, অন্ধকারের আবর্তে নেয়ার চক্রান্ত ছিল যুগে যুগে, আছে, থাকবে৷ মানব সমাজ এখনও কায়েমী স্বার্থান্বেষীমহলের চক্রান্ত থেকে মুক্ত হতে পারেনি, পারবে না৷ তাই বলে কি শুভচিন্তার ধারক বাহকেরা হাত গুটিয়ে ঘরের কোণে নিরাপদে বসে থাকবেন? জাতীর জনকের কন্যা স্পষ্ট করে বলেছেন--দুর্বলচিত্তের মানুষ তাঁর আশেপাশে থাকার কোন প্রয়োজন নেই৷ এর আগে তিনি আরো একটি কঠিন উক্তি করেছেন--"আমি মরার আগে মরতে চাইনা৷"  

    



লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।

আরও পড়ুন

ঢাবির 'ঘ' ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাবির 'ঘ' ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ...

মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিস্থিতিতে আশ্বস্ত ইসি

মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিস্থিতিতে আশ্বস্ত ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, অবাধ ও ...

কামাল হোসেনকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন সজীব ওয়াজেদ জয়

কামাল হোসেনকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন সজীব ওয়াজেদ জয়

সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ...

তারেক জিয়ার নেতৃত্ব মেনে নিতেও ড. কামালের আপত্তি নেই

তারেক জিয়ার নেতৃত্ব মেনে নিতেও ড. কামালের আপত্তি নেই

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ...

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সমস্যা তুলে ধরতে হবে: গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সমস্যা তুলে ধরতে হবে: গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সমস্যা সম্ভাবনা ...

২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়

২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ...

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল আজ বিকেলে

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল আজ বিকেলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ...

খাশোগিকে ‘ভুল করে হত্যা’র স্বীকারোক্তি দিচ্ছে সৌদি!

খাশোগিকে ‘ভুল করে হত্যা’র স্বীকারোক্তি দিচ্ছে সৌদি!

খ্যাতনামা সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিহতের ঘটনা অবশেষে স্বীকার করতে যাচ্ছে ...