সম্পাদকীয়

  • প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড.কামাল

    প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড.কামাল

  • টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!

    টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!

  • ড. কামাল দৃশ্যমান উত্তেজিত কেন!

    ড. কামাল দৃশ্যমান উত্তেজিত কেন!

  • সাংবাদিক ভাস্করের বাক স্বাধীনতা হরণ, প্রকাশ্যে!

    সাংবাদিক ভাস্করের বাক স্বাধীনতা হরণ, প্রকাশ্যে!

  • মুখ ও মুখোশে জাতীয় নির্বাচন

    মুখ ও মুখোশে জাতীয় নির্বাচন

আন্দোলন দেখেছি কিন্তু এমন তাণ্ডব দেখিনি : ঢাবি ভিসি

অর্থ বা বেপরোয়া ভোগের আশায় মুখোশ পরে আছে ডান বামপন্থীর

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০১৮     আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৮

সায়েদুল আরেফিন

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের চতুর্থ পর্যায়ের প্রকাশনায় শহীদ এমএ সাঈদসহ ১৬ জনের নামে দুই টাকা মূল্যের ‘শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মারক ডাকটিকিট’ বের করে। রাজশাহীতে তিনি ছিলেন ‘দৈনিক আজাদ’ ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক লোকসেবক’ এর নিজস্ব সংবাদদাতা। পরবর্তীকালে তিনি ‘দৈনিক পাকিস্তান’, ‘ডেইলি অবজারভার’, ‘পয়গাম’, ‘জেহাদ’ প্রভৃতি পত্রিকার সঙ্গের সংযুক্ত ছিলেন। পত্রিকার খবরে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে রাজশাহীর একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক ছিলেন এমএ সাঈদ। ওই সময় গ্রেটাররোডে শুধু মাত্র দৈনিক আজাদ পত্রিকার রাজশাহীতে একটি ব্যুরো অফিস ছিলো। ওই অফিসের ব্যুরো প্রধান ছিলেন এমএ সাঈদ। আর সংগ্রাম পত্রিকায় ছিলেন আলামিন নামের একজন সাংবাদিক। পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করতেন। আলামিনের মাধ্যমেই পাকিস্তানীরা তথ্য নিয়ে সাংবাদিক এমএ সাঈদকে আটক করে হত্যা করেছিলো। পূর্বপশ্চিম পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় তার সন্তানরা সবাই ছোট ছিলো। তাই পড়ালেখা শিখতে পারেনি। চাকরিও পায়নি।’ এমন খবর সারা দেশ জুড়ে আছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তার পরিবারের সদস্যসদের এমন অনেক খবর পাওয়া যায়।  

  

২৮ (৪) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বা তার সন্তানদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাতারে ফেলে প্রধানমন্ত্রী যে তাদের কোটা প্রদান করতে চাচ্ছেন তাতে ড. আকবর আলি খান সাহেবগন রাজী নন। রাজী নন আন্তরিকভাবে পাকি পন্থীরাও। হয়তো উনারা ভাবছেন যে উন্নত এগিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর (পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নয়) সদস্যগন লেখাপড়ার সুযোগ পান না অথবা তাঁরা মুটে মজুরী, চা বিক্রি, বাস ট্রাকের হেল্পারী, পত্রিকার হকারী অনেক ভালো কাজ বলে মনে করেন। ড. আকবর আলি খান সাহেবের ভাষায়, দিন বদলে গেছে তাই উনি তার নাতি পুতিকে হয়তো আর লেখা পড়া না শিখিয়ে মুটে মজুরী, চা বিক্রি, বাস ট্রাকের হেল্পারী, পত্রিকার হকারী করাবেন শহীদ এমএ সাঈদ সাহেবের ছেলেদের মতো! আমরা দেখতে চাই ড. আকবর আলি খান সাহেব তার নাতি-পুতিদের ক্ষেত্রে কী পেশা নির্বাচনে করেন।       

 

সাহিত্যিক মুনীর চৌধুরী বলেছিলেন, ‘মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়, আর মরে গেলে পচে যায়’। আমাদের দেশের অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা নানা কারণে বদলে গেছেন আমাদের বাঘা ছিদ্দিকীর মতো। নৈতিকতার চরম অবক্ষয় তাঁদের কোথায় নিয়ে গেছে তা তাঁরা নিজেও জানেন না। দেশ প্রেম, নীতি নৈতিকতা বাদ দিয়ে টাকা এখন তাঁদের আদর্শ। যেন তেন উপায়ে টাকা আয় করা চায় তাঁদের। কোটা না থাকলে অনেক নয় ছয় করা যায় সরকড়াই চাকরী পেতে। কারণ সরকারী চাকরী মানে তো সোনার হরিণ।              


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কিছুদিন কোরিয়া জাপানের কলোনি ছিল। আমেরিকায় নানান দেশের শাসন ছিল। ব্রিটিশদের হাত থকে মুক্তির সময় তারা কী করেছিলো আর এখন কী করছে তা থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি। কোরিয়ায় জাপানের সহযোগীদের বলা হয় ‘ছিনিল্পা’ বা জাপান পন্থী। চিনিল্পারা যাতে তিন পুরুষ যাতে কোরীয় সরকারের ভালো কোন পদে চাকরী না পায় তার আইন পাশ করে রেখেছে সে দেশের সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তো রাজাকারদের মারার জন্য গুলি খরচ না করে গরম আলকাতরায় চুবিয়ে মারতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ আর আমেরিকার ইংরেজীর বানানের উচ্চারণ, গাড়ি চালানোর লেন, বাসাবাড়ির লাইটের সুচের অফ অন সিস্টেম তো আলাদা। কতটুকি ঘৃণায় অ্যামেরিকানরা এটা করতে পারে ভেবে দেখা দরকার। মারকিনীরা তাঁদের পরবর্তী বংশধরদের শেখাতে যে এসব, তাও ভাবা দরকার। 


লক্ষ প্রাণ আর মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে, হাজারো গরীব যুবকের ত্যাগেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। যাদের অধিকাংশই  তখন ছিলেন গরীব অশিক্ষিত। তাই যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলায় তারাও হয়ে পড়ে অনগ্রসর গোষ্ঠী। যেমনটি হয়েছেন, রাজশাহীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক ছিলেন এমএ সাঈদ সাহেবের সন্তানেরা। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা চাকরী পায় বলে তার দায় কেন আসল মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চাপানো হবে। তার চেয়ে আসুন না ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে বের করি গ্রামে গ্রামে অনুসন্ধানের মাধ্যমে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা চাকরী পায় বলে আসলদের কোটা কমিয়ে দিতে হবে! এতো দেখি মাথা ব্যাথা হলে অধুধ না দিয়ে মাথা কেটে ফেলার ফর্মুলা!                  


আসলেই জীবনের শেষ বেলায় সবাইকে যখন মৃত্যু চিন্তা গ্রাস করে তখন সবাই তাঁদের মনের ভিতর লুকিয়ে রাখা চরম সত্য কথা বলে ফেলেন, নিজের অজান্তেই। তাঁদের দৈনন্দিন আচরণ থেকেই শিক্ষা নেয় তাদের পরিবারের সদস্যরা। একটা ছেলে বা মেয়ের আচরণ দেখলেই জানা যায় কারপরিবারের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আর কারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ মানসিকতার; যারা সুযোগের অভাবে অথবা খ্যাতি, অর্থ বা বেপরোয়া ভোগের আশায় মুখোশ পরে আছে ডান বামপন্থীর।         



© সায়েদুল আরেফিন 

উন্নয়ন কর্মী ও কলামিস্ট 

E-mail: arefinbhai59@gmail.com

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড.কামাল

প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড.কামাল

উজ্জীবিত ড.কামালের কি এমন হলো যে, আচমকা তিনি হতাশ হয়ে ...

‘ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসায় আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে’

‘ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসায় আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে ...

‘বিএনপির লোকজন শীতের অতিথি পাখির মতো’

‘বিএনপির লোকজন শীতের অতিথি পাখির মতো’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল ...

রাত ৪টার আগেই ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে: আ স ম রব

রাত ৪টার আগেই ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে: আ স ম রব

জাসদ সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আবদুর রব ...

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের কোলাকুলি

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের কোলাকুলি

ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এক ব্যতিক্রমী ...

নির্বাচন কমিশন,পুলিশ,সিভিল প্রশাসন সরকারি দলের পক্ষে কাজ করছে - মওদুদ আহমেদ

নির্বাচন কমিশন,পুলিশ,সিভিল প্রশাসন সরকারি দলের পক্ষে কাজ করছে - মওদুদ আহমেদ

শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বার লাইব্রেরী মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ ...

টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!

টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!

ড. কামালের ‘খামোশ’ শব্দ প্রয়োগ করা ভিডিও ফুটেজটি এখন ভাইরাল। ...

ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ

ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।শনিবার (১৫ ...