সম্পাদকীয়

  • ধারাবাহিক ইশতেহারের আয়না: পর্ব - বিএনপি

    ধারাবাহিক ইশতেহারের আয়না: পর্ব - বিএনপি

  • নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনকালীন সফর সংখ্যা কমবে কেন?

    নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনকালীন সফর সংখ্যা কমবে কেন?

  • আ স ম রবের ভাষণ যখন ‘পালাবার পথ পাবেন না’

    আ স ম রবের ভাষণ যখন ‘পালাবার পথ পাবেন না’

  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও প্রাসঙ্গিক কথা

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও প্রাসঙ্গিক কথা

  • প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড. কামাল

    প্রধানমন্ত্রীর এক নির্বাচনী সফরেই কুপকাত ড. কামাল

বেগম জিয়া ও তার কর্মীরা কি যুদ্ধের এই ভয়াবহতা জানে ?

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০১৮

আবদুল মালেক, উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

"যুদ্ধ শেষে ক্যাম্প থেকে কয়েকটি কাঁচের জার উদ্ধার করা হয়, যাতে  ফরমালিনে সংরক্ষিত ছিল মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ। অংশগুলো কাটা ছিল নিখুঁতভাবে।"

- ডাঃ বিকাশ চক্রবর্তী, খুলনা

.

"মার্চে মিরপুরের একটি বাড়ি থেকে পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হয় ও কাপড় খুলতে বলা হয়। রাজি না হলে বাবা ও ছেলেকে আদেশ করা হয় যথাক্রমে মেয়ে ও মাকে ধর্ষণ করতে। এতেও রাজি না হলে  বাবা ও ছেলেকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয় এবং মা মেয়ে দুজনকে দুজনের চুলের সাথে বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় টেনে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।"

-মোঃ নুরুল ইসলাম, কুমারখালি।

.

"আমাদের সংস্থায় আসা ধর্ষিত নারীদের প্রায় সবারই ছিল ক্ষত-বিক্ষত যৌনাঙ্গ। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিড়ে ফেলা রক্তাক্ত যোনিপথ, দাঁত দিয়ে ছিড়ে ফেলা স্তন, বেয়োনেট দিয়ে কেটে ফেলা স্তন-উরু এবং পশ্চাৎদেশে ছুরির আঘাত নিয়ে নারীরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসতো।" 

-মালেকা খান

.

যুদ্ধের পর পুনর্বাসন সংস্থায় ধর্ষিতাদের নিবন্ধীকরণে যুক্ত সমাজকর্মী।

.

"১৮ ডিসেম্বর মিরপুরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একজনকে খুঁজতে গিয়ে দেখি মাটির নিচে বাঙ্কার থেকে ২৩জন সম্পূর্ণ উলঙ্গ, মাথা কামানো নারীকে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে পাক আর্মিরা।"

-বিচারপতি এম এ সোবহান

.

"যুদ্ধের পর পর ডিসেম্বর থেকে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বেশ কিছু নারীকে। তাদের পোশাক ও চলাফেরা থেকে অনেকেই নিশ্চিত জানতাম ওরা যুদ্ধের শিকার এবং ওদের যাবার জায়গা নেই।"

-ড. রতন লাল চক্রবর্তী, অধ্যাপক ইতিহাস বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

.

"কোনো কোনো মেয়েকে পাকসেনারা এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণ করেছে।"

-সুসান ব্রাউনি মিলার (এগেইনেস্ট আওয়ার উইল: ম্যান, উইম্যান এন্ড রেপঃ ৮৩)

.

"এক একটি গণধর্ষণে ৮/১০ থেকে ১০০ জন পাকসেনাও অংশ নিয়েছে।"

-ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গ্রন্থ “যুদ্ধ ও নারী"।

.

মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল নিয়াজী। এই নরপশুর নেতৃত্বই রাওফরমান, রহিম খান, টিক্কা খানের মত জানোয়ার এদেশের উপর চালায় শতাব্দীর ঘৃণ্যতম গণহত্যা। সেই সাথে এসব বিকৃত রুচির জেনারেলদের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয় ধর্ষণের মহোৎসব।

.

আমার এখনকার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতন, যত ঘটেছে আমার বিস্ময় তত বেড়েছে। এই সেক্টরে এসে আমরা বরাবরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরনো কিছু গল্প বলে পাশ কাটিয়ে যেতে চাই, আর এর ফাঁকে আড়াল হয়ে যায় নির্মমতার অনেক গল্প, যে গল্প হার মানাবে হিটলারের নির্মমতাকে, আনা ফ্র্যাঙ্কের ডাইরিকে। আমার হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত ধর্ষণের সংখ্যা হয়ত দশ লক্ষও হতে পারে।

হাতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে দেখেই বলছি। সম্ভবত সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের রেকর্ডটাও আমাদের পকেটেই যাচ্ছে। আর এই ধর্ষণ উৎসবের হালালাইজেশানটা করা হয়েছিলো ধর্মের নামে।

.

ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান সিদ্দিকী তার "East Pakistan The End Game" বইতে লেখেন, "নিয়াজী জওয়ানদের অসৈনিকসুলভ, অনৈতিক এবং কামাসক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতো। 'গতকাল রাতে তোমাদের অর্জন কি আমার বাঘেরা?' চোখে শয়তানের দীপ্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করত নিয়াজি। অর্জন বলতে ধর্ষণকেই বোঝাত।"

.

সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল ডিভিশান কমান্ডারের কনফারেন্সে এক অফিসার তুলেছিলেন পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক বাঙ্গালি নারীদের ধর্ষনের প্রসঙ্গ । নিয়াজী তখন সেই অফিসারকে বলেন,

"আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক। ভালোই তো হচ্ছে, এসব হিন্দুয়ানি বাঙ্গালি রক্তে সাচ্চা মুসলিম পাঞ্জাবি রক্ত মিশিয়ে তাদের জাত উন্নত করে দাও।" ধর্ষণের পক্ষে তার যুক্তি ছিল,

"আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য থাকবে,যুদ্ধ করবে, মারা যাবে পূর্ব পাকিস্তানে এবং যৌন ক্ষুধা মেটাতে যাবে ঝিলমে?"

ধর্ষণে লিপ্ত এক পাকিস্তানী মেজর তার বন্ধুকে চিঠি লিখেছে;

"আমাদের এসব উশৃঙ্খল মেয়েদের পরিবর্তন করতে হবে যাতে এদের পরবর্তী প্রজন্মে পরিবর্তন আসে, তারা যেন হয়ে ওঠে ভালো মুসলিম এবং ভালো পাকিস্তানি।"

স্বাধীনতার পর ধর্ষিতা বাঙালি মহিলাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অষ্ট্রেলিয়ান ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গনধর্ষনের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন যে তারা কিভাবে এমন ঘৃণ্য কাজ-কারবার করেছিলো। অষ্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক বিচলিত হলেও পাক অফিসারদের সাচ্চা ধার্মিক হৃদয়ে কোন রকম রেখাপাত ঘটেনি। তাদের সরল জবাব ছিল,

"আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো যে একজন ভালো মুসলমান কখনই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। অতএব যত পার বাঙালী নারীদের গর্ভবতী কর"। এসব ঘটনা কি বেগম জিয়া ও তার কর্মীরা জানে?




আরও পড়ুন

নৌমন্ত্রীর বাসার সামনে দুটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

নৌমন্ত্রীর বাসার সামনে দুটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের মাদারীপুর শহরের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসার সামনে ...

'নির্বাচন পদ্ধতি সুষ্ঠু রাখার দায়িত্ব নির্বাচন

'নির্বাচন পদ্ধতি সুষ্ঠু রাখার দায়িত্ব নির্বাচন

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল বরার্ট মিলার বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি ...

এখনকার আ’লীগ বঙ্গবন্ধুর নয়: মান্না

এখনকার আ’লীগ বঙ্গবন্ধুর নয়: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ...

ধানের শীষে ভোট দিন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন: মির্জা ফখরুল

ধানের শীষে ভোট দিন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ...

বগুড়া-৫ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

বগুড়া-৫ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ...

ট্রাফিক আইন অমান্য করায় রাজধানীতে ৪০৫৩টি মামলা

ট্রাফিক আইন অমান্য করায় রাজধানীতে ৪০৫৩টি মামলা

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৪০৫৩টি মামলা ও ...

কারাগারে বিএনপি নেতা বাচ্চু

কারাগারে বিএনপি নেতা বাচ্চু

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা ...

জনগণের মধ্যে ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে: ড. কামাল

জনগণের মধ্যে ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে: ড. কামাল

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকায় একাদশ ...