সম্পাদকীয়

  • "মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

    "মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

  • শেখ হাসিনার প্রাণান্ত চেষ্টা স্থিতিশীল দেশ

    শেখ হাসিনার প্রাণান্ত চেষ্টা স্থিতিশীল দেশ

  • যাদের মেধা তারাই সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পাবে

    যাদের মেধা তারাই সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পাবে

  • আকাশজুড়ে মেঘ-রোদ্দুর খেলা

    আকাশজুড়ে মেঘ-রোদ্দুর খেলা

  • সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী'তে দেয়া পয্যবেক্ষন--''ষোড়শ সংশোধনী ও কোটা সংরক্ষনে' দেয়া পয্যবেক্ষন এক নয়"

    সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী'তে দেয়া পয্যবেক্ষন--''ষোড়শ সংশোধনী ও কোটা সংরক্ষনে' দেয়া পয্যবেক্ষন এক নয়"

বেগম জিয়া ও তার কর্মীরা কি যুদ্ধের এই ভয়াবহতা জানে ?

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০১৮

আবদুল মালেক, উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

"যুদ্ধ শেষে ক্যাম্প থেকে কয়েকটি কাঁচের জার উদ্ধার করা হয়, যাতে  ফরমালিনে সংরক্ষিত ছিল মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ। অংশগুলো কাটা ছিল নিখুঁতভাবে।"

- ডাঃ বিকাশ চক্রবর্তী, খুলনা

.

"মার্চে মিরপুরের একটি বাড়ি থেকে পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হয় ও কাপড় খুলতে বলা হয়। রাজি না হলে বাবা ও ছেলেকে আদেশ করা হয় যথাক্রমে মেয়ে ও মাকে ধর্ষণ করতে। এতেও রাজি না হলে  বাবা ও ছেলেকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয় এবং মা মেয়ে দুজনকে দুজনের চুলের সাথে বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় টেনে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।"

-মোঃ নুরুল ইসলাম, কুমারখালি।

.

"আমাদের সংস্থায় আসা ধর্ষিত নারীদের প্রায় সবারই ছিল ক্ষত-বিক্ষত যৌনাঙ্গ। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিড়ে ফেলা রক্তাক্ত যোনিপথ, দাঁত দিয়ে ছিড়ে ফেলা স্তন, বেয়োনেট দিয়ে কেটে ফেলা স্তন-উরু এবং পশ্চাৎদেশে ছুরির আঘাত নিয়ে নারীরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসতো।" 

-মালেকা খান

.

যুদ্ধের পর পুনর্বাসন সংস্থায় ধর্ষিতাদের নিবন্ধীকরণে যুক্ত সমাজকর্মী।

.

"১৮ ডিসেম্বর মিরপুরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একজনকে খুঁজতে গিয়ে দেখি মাটির নিচে বাঙ্কার থেকে ২৩জন সম্পূর্ণ উলঙ্গ, মাথা কামানো নারীকে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে পাক আর্মিরা।"

-বিচারপতি এম এ সোবহান

.

"যুদ্ধের পর পর ডিসেম্বর থেকে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বেশ কিছু নারীকে। তাদের পোশাক ও চলাফেরা থেকে অনেকেই নিশ্চিত জানতাম ওরা যুদ্ধের শিকার এবং ওদের যাবার জায়গা নেই।"

-ড. রতন লাল চক্রবর্তী, অধ্যাপক ইতিহাস বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

.

"কোনো কোনো মেয়েকে পাকসেনারা এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণ করেছে।"

-সুসান ব্রাউনি মিলার (এগেইনেস্ট আওয়ার উইল: ম্যান, উইম্যান এন্ড রেপঃ ৮৩)

.

"এক একটি গণধর্ষণে ৮/১০ থেকে ১০০ জন পাকসেনাও অংশ নিয়েছে।"

-ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গ্রন্থ “যুদ্ধ ও নারী"।

.

মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল নিয়াজী। এই নরপশুর নেতৃত্বই রাওফরমান, রহিম খান, টিক্কা খানের মত জানোয়ার এদেশের উপর চালায় শতাব্দীর ঘৃণ্যতম গণহত্যা। সেই সাথে এসব বিকৃত রুচির জেনারেলদের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয় ধর্ষণের মহোৎসব।

.

আমার এখনকার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতন, যত ঘটেছে আমার বিস্ময় তত বেড়েছে। এই সেক্টরে এসে আমরা বরাবরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরনো কিছু গল্প বলে পাশ কাটিয়ে যেতে চাই, আর এর ফাঁকে আড়াল হয়ে যায় নির্মমতার অনেক গল্প, যে গল্প হার মানাবে হিটলারের নির্মমতাকে, আনা ফ্র্যাঙ্কের ডাইরিকে। আমার হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত ধর্ষণের সংখ্যা হয়ত দশ লক্ষও হতে পারে।

হাতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে দেখেই বলছি। সম্ভবত সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের রেকর্ডটাও আমাদের পকেটেই যাচ্ছে। আর এই ধর্ষণ উৎসবের হালালাইজেশানটা করা হয়েছিলো ধর্মের নামে।

.

ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান সিদ্দিকী তার "East Pakistan The End Game" বইতে লেখেন, "নিয়াজী জওয়ানদের অসৈনিকসুলভ, অনৈতিক এবং কামাসক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতো। 'গতকাল রাতে তোমাদের অর্জন কি আমার বাঘেরা?' চোখে শয়তানের দীপ্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করত নিয়াজি। অর্জন বলতে ধর্ষণকেই বোঝাত।"

.

সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল ডিভিশান কমান্ডারের কনফারেন্সে এক অফিসার তুলেছিলেন পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক বাঙ্গালি নারীদের ধর্ষনের প্রসঙ্গ । নিয়াজী তখন সেই অফিসারকে বলেন,

"আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক। ভালোই তো হচ্ছে, এসব হিন্দুয়ানি বাঙ্গালি রক্তে সাচ্চা মুসলিম পাঞ্জাবি রক্ত মিশিয়ে তাদের জাত উন্নত করে দাও।" ধর্ষণের পক্ষে তার যুক্তি ছিল,

"আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য থাকবে,যুদ্ধ করবে, মারা যাবে পূর্ব পাকিস্তানে এবং যৌন ক্ষুধা মেটাতে যাবে ঝিলমে?"

ধর্ষণে লিপ্ত এক পাকিস্তানী মেজর তার বন্ধুকে চিঠি লিখেছে;

"আমাদের এসব উশৃঙ্খল মেয়েদের পরিবর্তন করতে হবে যাতে এদের পরবর্তী প্রজন্মে পরিবর্তন আসে, তারা যেন হয়ে ওঠে ভালো মুসলিম এবং ভালো পাকিস্তানি।"

স্বাধীনতার পর ধর্ষিতা বাঙালি মহিলাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অষ্ট্রেলিয়ান ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গনধর্ষনের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন যে তারা কিভাবে এমন ঘৃণ্য কাজ-কারবার করেছিলো। অষ্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক বিচলিত হলেও পাক অফিসারদের সাচ্চা ধার্মিক হৃদয়ে কোন রকম রেখাপাত ঘটেনি। তাদের সরল জবাব ছিল,

"আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো যে একজন ভালো মুসলমান কখনই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। অতএব যত পার বাঙালী নারীদের গর্ভবতী কর"। এসব ঘটনা কি বেগম জিয়া ও তার কর্মীরা জানে?




আরও পড়ুন

শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প ...

নির্বাচনের আগে ছাড়া পাচ্ছেন না নওয়াজ শরীফ

নির্বাচনের আগে ছাড়া পাচ্ছেন না নওয়াজ শরীফ

সামনের সপ্তাহেই ভোট পাকিস্তানে। প্রচারের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। আর সেই ...

'অন্ধকার গুহায় ১০ দিন আমরা শুধু পানি খেয়েছি'

'অন্ধকার গুহায় ১০ দিন আমরা শুধু পানি খেয়েছি'

থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহা থেকে উদ্ধার করা সেই ১২ খুদে ...

জোসনার আসল মানুষটাইতো নেই ..

জোসনার আসল মানুষটাইতো নেই ..

বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ তখন আমেরিকায় পিএইচডি করতে গেছে। আমার ...

"মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

"মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

২০০৮ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ। আমি তখন দৈনিক সমকালের ...

একদিনে দুই ভাইয়ের লাশের ভার বইতে হল প্রতিমন্ত্রী পলকে !

একদিনে দুই ভাইয়ের লাশের ভার বইতে হল প্রতিমন্ত্রী পলকে !

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের খালাতো দুই ভাই ...

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ হবে। শিক্ষামন্ত্রী ...

ম্যাজিস্ট্রেটের এক হাতে গোলাপ থাকবে, অন্য হাতে থাকবে হাতকড়া !

ম্যাজিস্ট্রেটের এক হাতে গোলাপ থাকবে, অন্য হাতে থাকবে হাতকড়া !

এক হাতে গোলাপ আর অন্য হাতে হাতকড়া থাকবে ভ্রাম্যমান আদালত ...