সম্পাদকীয়

  • রাজনীতি, এক ধরনের দায়বদ্ধতা

    রাজনীতি, এক ধরনের দায়বদ্ধতা

  • বিএনপি ধ্বংস করে এখন আওয়ামী লীগ বিধ্বস্ত্বের চেষ্টায় জামায়াত, পাশে মোসাদ-সিআইএ!

    বিএনপি ধ্বংস করে এখন আওয়ামী লীগ বিধ্বস্ত্বের চেষ্টায় জামায়াত, পাশে মোসাদ-সিআইএ!

  • চরিত্রহীনের 'স্বপ্নভঙ্গ' (Broken Dream)

    চরিত্রহীনের 'স্বপ্নভঙ্গ' (Broken Dream)

  • জামায়াতঃ বিএনপির জন্য বিষের বটিকা

    জামায়াতঃ বিএনপির জন্য বিষের বটিকা

  • সিনহা বাবুর লেখা ‘ব্রোকেন ড্রিম’ উপন্যাস

    সিনহা বাবুর লেখা ‘ব্রোকেন ড্রিম’ উপন্যাস

রাজনীতি'র নিপুণ কারিগর 'শেখ হাসিনা'-'বাংলাদেশের রাজনীতি'র প্রতিটি বাঁকে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠিত করে বর্তমান অবস্থানে স্থির হয়েছেন

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০১৮

রুহুল আমিন মজুমদার,উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

 জাতীর জনকের জৈষ্ঠকন্যা দেশরত্ম 'শেখ হাসিনা' দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিধারায় প্রতিটি পরিবর্তনের বাঁকে সফলভাবে দল, দেশ, জাতীকে সঙ্গে নিয়ে অতিক্রম করতে পেরেছেন। আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব শুন্য করার প্রতিটি চক্রান্ত সফলভাবে প্রতিহত করতে পেরেছেন। তাঁর সাহষ, দক্ষতা, ধৈয্য, সহনশীলতা লুপ্তপ্রায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিনিয়ত শানীত করেছে।তাঁর প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভুলুন্ঠিত স্বাধীনতা, মুল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের  চেতনা জাগ্রত করেছে। তাঁর নিয়ন্তর প্রচেষ্টার সকল প্রাপ্তি যুক্ত হয়ে প্রজম্মান্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির কাংক্ষীত অঙ্গিকার পূরণে অশুভ শক্তির ছায়ামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় অত্যাসন্ন হয়ে, হাতের নাগালে আসার পদধ্বনি শুনা যাচ্ছে।


    ৭৫পরবর্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে জাতীর জনকের মর্মান্তিক হত্যাকান্ড এবং তাঁর একান্ত সহচর খোন্দকার মোস্তাকের ক্ষমতাগ্রহন যে কোন বিচারে বাংলাদেশের ইতিহাসে কাল অধ্যায়ের সৃষ্টিকারী একটি ঘটনা ছিল।অদ্যকার আলোচনায় বিষয়টি সহ তাঁর পুর্বের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে আলোচনার ইচ্ছে নেই।তৎপরর্তি ঘটনা পুঞ্জিতে বাংলাদেশের রাজনীতি,আর্থ সামাজিক পরিবর্তনের সুদুরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা সমূহকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার আশা রাখি।

    

  বাংলাদেশের সার্বিক পরিবর্তনের গতিধারার স্রোতে সৃষ্ট পরিবর্তনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথম ভাগে--মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অঙ্গিকার প্রতি পদে পদে ভুলুন্ঠিত করার ইতিহাস। দ্বিতীয় ভাগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুণ:জাগরন এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মানের সুচনা।

     প্রথমত:--মেজর জিয়ার উত্থান, শেখ হাসিনা কতৃক আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব গ্রহন,শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন, জিয়ার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড, বিচারপতি সাত্তারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির আসন গ্রহন, তাঁর ক্ষমতাচ্যুতি, এরশাদের উত্থান, খালেদা জিয়ার বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহন, ৯১ এর গনভ্যুত্থান, তত্বাবধায়ক সরকার গঠন, ৯১ এর সাধারন নির্বাচন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে বিজয় অর্জন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গন আন্দোলন গনভ্যুত্থানে রুপান্তর, খালেদা জিয়ার পদত্যাগ, ৯৬ ইং সালের সাধারন নির্বাচন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন, ২০০১ইং সালে শান্তিপুর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তি অশুভশক্তি কতৃক আওয়ামী নিধন অভিযান উল্লেখযোগ্য।

    

       দ্বিতীয়ত:--২০০১এর সাধারন নির্বাচন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একক সংখ্যা গরিষ্টতা অর্জন পুর্বক দেশ বিরুধী শক্তি সহ জোট সরকার গঠন, শেখ হাসিনা কতৃক আন্দোলন সংগ্রাম সুচনা,খালেদা জিয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার চক্রান্ত, অবশেষে শকুনের দৃষ্টিপাত,সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার গঠন,তিনমাসের সরকার দুই বছর শাসন ক্ষমতা পরিচালনা, দুই নেত্রীর বন্দি জীবন, ২০০৮ইং সালে সাধারন নির্বাচন ঘোষনা,আওয়ামী লীগের ভুমিধ্বস বিজয় অর্জন, বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তর, শেখ হাসিনা সরকারের অধিনে প্রথম ২০১৪ ইং সালে নির্বাচন ঘোষনা, বিএনপির নেতৃত্বে বিশ দলের নির্বাচন বর্জন, নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষে সহিংস অ্যানদোলন,আন্দোলন পরবর্তি খালেদা জিয়া পরিবারের দুর্নীতির ব্যাপক তথ্য উৎঘাটন, খালেদা জিয়ার আদলতের রায়ে শাস্তি, শাস্তি পরবর্তি জেলে প্রেরণ।

    

    উল্লেখিত ঘটনা প্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতির এক একটা বাঁক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই গতিধারার প্রতিটি বাঁকে জনজীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ পরিবর্তনের গতিধারার আবর্তে প্রধান রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব সংকট অদ্যাবদি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বরঞ্চ সংকট গভীরতম আকার ধারন করেছে।মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে পাকিস্তানী ভাবধারার বাংলাদেশের সুচনাকারী জিয়া পরিবারের অস্তিত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিলীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।সঙ্গত কারনে সুচনার পতনের অর্থই দাঁড়ায় পতনের পুণ:ত্থান।

    

    জিয়া পরিবারের বর্তমান হালহকিকত সম্পর্কে কিছু লিখতে গেলে সঙ্গতকারনে কিছুটা অতীত স্মৃতি রোমমন্থন করা প্রয়োজন।অত্যান্ত সংক্ষিপ্তকারে আমার দেখা কিছু স্মৃতি পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

 

মেজর জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।তাঁর পরিবার পাকিস্তান সরকারের সেনা সদরে জিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহনের পুর্বের অবস্থানে ছিল।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তাঁর বিতর্কীত ভুমিকার কারনে সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে তিনি নিজেই একটি বাহিনী গঠন করে জেডফোর্সের নামে যুদ্ধ চালিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের পর বহু নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৬ ইং সালে বেয়াঈনীভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে জিয়ার উত্থান ঘটে। তিনি নিজে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সতেএও রাজাকার মশিউর রহমান এবং শাহ আজীজকে রাষ্ট্রের প্রধান মন্ত্রী ও সিনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে নিয়ে আসেন।৭২ ইং সালের সংবিধান স্থগিত করে সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে একে একে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ স্থাপনা, উৎস, প্রতিষ্ঠানের পুর্বের পাকিস্তানী নামকরণ অব্যাহত রাখেন।


     অবশেষে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রোনিক্ মিডিয়ায় তাঁর ব্যাক্তিগত এবং পরিবারের সৎ জীবন যাপনের তথ্যচিত্র লাগাতার প্রকাশিত  হয়। তৎসময়ে তাঁর পরিবারের সততার নিদর্শন সমূহ মিডিয়া অত্যান্ত করুন ও হৃদয়গ্রাহ্য করে দীর্ঘদিন প্রচারের ব্যাবস্থা করেছিল। উদাহরণ স্বরুপ পরিবারের সর্বনিম্ন পয্যায়ের ব্যাবহারীক পরিধেয় কাপড়-চোপড় ও উক্ত কাপড়-চোপড় রাখার একটি ভাঙ্গা স্যুটকেস বাংলাদেশের জনগনের সামনে তুলে ধরা হয়। এহেন প্রচার প্রচারনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চমহল থেকে উৎসাহীত করা হয়। দোর্দন্ড প্রতাপশালী রাষ্ট্রপতি'র অতি সাধারন জীবনযাপনের দৃশ্যাবলী'র উপস্থাপনা স্বচক্ষে দেখে বাংলাদেশের মানুষ সহজে বিশ্বাস করে। ঐতিহ্যগত আবেগাপ্লোত জাতী বাঙ্গালী, এহেন করুন দৃশ্যে যারপরনাই শোকে-দু:খ্যে সারা বাংলাদেশের মানুষ মুহ্যমান হয়ে পড়ে। জাতী অতিমাত্রার মিতব্যায়ী প্রয়াত মহান রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদ্যবিধবা স্ত্রী এবং এতিম দুই ছেলের ভবিষ্যত চিন্তায় চিন্তিত হয়ে পড়ে। উক্ত পরিবারের রক্ষনাবেক্ষন, দুই ছেলে'র শিক্ষাদীক্ষার বিষয় উদ্ভেগ প্রকাশ করে দেশব্যাপী যত্রতত্র, আনাছে কানাছে, চায়ের দোকানে, রাস্তা ঘাটে, যানবাহনে, খোলার মাঠে জটলা পাকিয়ে আলোচনাক্রমে হাহুতাশ করতে থাকে।


   ইত্যবসরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি'র বিধবা স্ত্রী' বেগম খালেদা জিয়া'র দুই এতিম শিশুপুত্রকে পাশে বসিয়ে, সাদা শাড়ী পরিহিতবস্থায় 'বাংলাদেশ টেলিভিশনে এক হৃদয়গ্রাহী সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। উক্তরুপ অসহায়ার করুন চাহনীতে সুশ্রুষামন্ডিত চেহারার সরকারের সর্বউচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা' এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্ত্রী'র নিজমূখে তাঁর পারিবারের অতীত জীবনযাপন সম্পর্কে কল্পকাহিনী শুনে, দেশ বিদেশে বসবাসরত: প্রত্যেক বাঙ্গালী'র সুপ্ত আবেগে আরো অধিক গতি সঞ্চারীত হয়।


     উল্লেখ্য-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক বেতন-ভাতা অন্যান্ন সকল সরকারী কর্মকর্তাদের চাইতে তিনগুন ছিল। তাছাড়া মেজর জিয়ার পত্নি 'বেগম খালেদা জিয়া' স্বামীর কর্মস্থলসুত্রে পাকিস্তানের সেনানিবাসে অবস্থান করেছেন। সেনাবাহিনীতে প্রাপ্ত সুবিধানুযায়ী স্বামী'র বেতন-ভাতা পাকিস্তান সরকারের প্রদত্ত মেজর পদমায্যদার সকল সুবিধা সহ নিয়মিত উত্তোলন করেছেন। মেজর জিয়ার মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পুর্বে-- তিনি প্রথমত: মেজর জেনারেল, সামরিক বাহিনী' প্রধান, সামরিক আইন প্রশাসকের সমুদয় রাজকীয় সুবিধাদী সহ প্রাপ্ত বেতন-ভাতাদি নিয়মিত উত্তোলন করেছেন। তদোপুরী রাষ্ট্রপতি'র দায়িত্ব পালনরত: অবস্থায় দেশের সকল সরকারী কর্মকর্তার চাইতে উচ্চতর রাজকীয় সুবিধাদী সহ বেতন-ভাতাদি নিয়মিত প্রাপ্ত ছিলেন। বর্তমান সময়েও উক্ত রীতিনীতি'র ব্যাত্যায় ঘটেনি, বরঞ্চ সর্বপয্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে।


    বিগত চল্লিশ বছরের জিয়া পরিবারের ইতিহাসে তাঁর জীবতবস্থায় বা মৃত্যুর পর রাষ্ট্র পক্ষ, তাঁর দল এবং কি তাঁর পরিবার কখনই বলেননি ''মেজর  জিয়া'' কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় বেতনভাতা, প্রাপ্ত সুবিধাদী কখনও রাষ্ট্রের নিকট থেকে গ্রহন করেননি। রাষ্ট্রের  সর্বোচ্ছ কর্ণধার হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহন করেন না, এমন অনেক রাষ্ট্র প্রধান বর্তমানেও আছে, অতীতেও ছিল। মেজর জিয়ার ক্ষেত্রে তদ্রুপ মহৎ ত্যাগ থাকা অসম্ভব ছিলনা। অদ্যাবদি জিয়া পরিবার, তাঁর দল বিএনপি বা বাংলাদেশ সরকার-- কোনপক্ষই কোনদিন কোনপ্রকার প্রেসনোট, সাংবাদিক সম্মেলন, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জনকল্যানে জিয়ার অবদান স্বরুপ "বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় তহবিলে দান করেছেন" সম্পর্কীত মহর্ত্বের শুভ সংবাদটি জাতীকে কখনো জানানো হয়নি।


     তাঁর সম্পূর্ণ বৈধ আয়ের টাকা বাংলাদেশের বা বিদেশের কোন একটি বা একাধিক ব্যাংকে গচ্ছিত আছে, তেমন কোন তথ্যও অদ্য পয্যন্ত কোনপক্ষ দেয়নি। কোথায় গেল তাঁর এত বিপুল পরিমাণ টাকা? কেন বেগম জিয়া তাঁর বড়পুত্র তারেক জিয়াকে স্বামী 'মেজর জিয়া'র পরিত্যাক্ত প্যান্ট কেটে সেলাই করে দিতে হ'ত? দেশবাসী সকল নাগরিকের খুব ভাল ভাবে জানা আছে--'সেনাবাহিনী'র চাকুরির 'রুলস অব বিজনেস' এর রাজকীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের বরাদ্ধ প্রাপ্তির অধিকারী হন। এবং কি একজন নিম্নপদের সেনাকর্মকর্তার বাসার চাকর বাকরের পরিতোষিক--সরকারী কোষাগারের অর্থে আগেও পরিশোধিত হতো, এখনও হয়। যে হৃদয় বিদারক চিত্রটি মানুষের হৃদয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল, ঝর ঝর করে অশ্রুধারা নির্গত হয়েছিল--সেইরুপ চিত্রবৎ জীবন যাপন, সর্বনিম্ন বেতন ভুক্ত সেনাবাহিনী'র সাধারন কর্মী'র বেতনেও হওয়ার কথা নয়।নিয়মিত ভাতা,অনুষাঙ্গিক সুবিধাদী প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।প্রকৃতিগত এবং ঐতিহ্যগত  আবেগ প্রবন কোটি কোটি বাঙ্গালী'র মধ্যে একজন শয়তান বাঙ্গালী'র মাথায়ও এই ক্ষুদ্র এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি  আসেনি। 


  যাক সেইসমস্ত পুরাতন বচন--আবেগের ফসল কে কে পেল, একটু দেখে আসা যাক। রাষ্ট্রপতি জিয়ার অকাল প্রয়ানে ভারপ্রাপ্ত  রাষ্ট্রপতি'র দায়ীত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি আবদুস সাত্তার। তিনি দেশের আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে দেশব্যাপী নতুন করে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করেন।  সামরিক বাহিনী' প্রধানের শুন্যপদ পূরনকল্পে মেজর 'হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ'কে তৎক্ষনাৎ পদন্নোতি দিয়ে মেজর জেনারেল করেন, এবং  সামরিক বাহনী প্রধানের সর্বোচ্ছ পদে অধিষ্ঠিত করেন। জরুরী অবস্থা ঘোষিত থাকায় সঙ্গতভাবে সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত সামরিক বাহিনী প্রধান 'হু, মু, এরশাদ' প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকে'র দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।


     সুচুতুর উচ্চাবিলাসী প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল 'হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ' জনমনের উৎসারীত আবেগ, অনর্গল বর্ষিত চোখের জল বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহন করেন।দুষ্ট লোকেরা বলেন--তিনি নাকি ক্ষমতার ভীত পাকা করার কাজে, জিয়া পরিবারের প্রতি মানুষের আবেগের চোখের পানি, সফলতার সঙ্গে ক্ষমতায় টিকে থাকার সিঁড়িতে রুপান্তর করেছিলেন। আমি বলি--"জেনারেল এরশাদ অত্যান্ত সুক্ষভাবে জন আক্ষাংকার  প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনার্থে কোনপ্রকার ট্রুটি করেননি। 


   জিয়া পরিবারের রক্ষনাবেক্ষনের সমূদয় দায়িত্ব রাষ্ট্র কতৃক বহন করার মহতি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন জেনারেল এরশাদ। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষে জিয়া পরিবার বরাবর যথোপযুক্ত রাষ্ট্রীয় পরিতোষিক এবং বাসস্থানের সমস্যা সমাধানকল্পে রাজধানী ঢাকায় দু'টি বাড়ী একটাকা হারে মুল্যমান সাব্যস্তে বরাদ্ধ প্রদান করেছিলেন। তৎক্ষনাৎ তাঁর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেশে-বিদেশে প্রচুর প্রসংশা অর্জন করেছিল এবং সর্বমহল তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছিল।


   সুচুতুর এরশাদ জনগনের পঞ্চমূখী প্রশংসা কাজে লাগিয়ে কৌশলে বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজে'ই রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ সুগম করেছিলেন। জিয়া পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় দানের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল 'হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যাহারের মাধ্যমে' দক্ষ অভিনেতার শ্রেষ্ঠ অভিনয়টি করেছিলেন। একমাত্র সকাল বিকাল চরিত্র বদলের অভিনয় গুনে একটানা নয়বছর তিনি যথারীতি প্রভূদের নীতিরীতি অনুসরন পুর্বক রাষ্ট্রীয় স্বর্গীয় ক্ষমতা উপভোগ করতে পেরেছিলেন।


    অন্যদিকে মেজর জিয়ার একান্ত অবলা গৃহিনী, অশিক্ষিত বিধবা পত্নি বেগম খালেদা জিয়া দলের বাঘা বাঘা ব্যারিষ্টার, সিএসপি রাজনীতিক, পোড় খাওয়া জননেতাদের টপকে বৃহৎ রাজনৈতিক দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)' বিএনপি'র চেয়ারপারসনের দায়ীত্ব অনায়াসে করায়ত্ব করেছিলেন। সাধারন মানুষের মধ্যে 'জিয়া পরিবারে'র ব্যাপক আবেগী জনপ্রিয়তা লক্ষ করে উচ্চশিক্ষিত বাঘা বাঘা ব্যারিষ্টার, সিএসপি নেতা, রাজনীতিবীদগন বেগমের সঙ্গে রণে ভঙ্গ দিয়ে লেজ গুটিয়ে নিয়েছিলেন। অক্ষর জ্ঞানহীন মুর্খ্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মেনে, তাঁর পায়ের নিছে বসে আমৃত্যু রাজনীতি চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।


   উল্লেখ্য মৃত: মেজর জিয়া দেশ, জাতী, জনগনের শতবছরের সীমাহীন ক্ষতির সমুদয় উপসর্গের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। মিডিয়ার আবেগী প্রচারের জনপ্রিয়তার জোয়ারের মুখে কারোই  মনে হয়নি, তিনি ছিলেন দেশ ও জাতীর শ্রেষ্ট দুশমন। তথাকথিত সততার নিদর্শন ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জীর অবেগী জোয়ারের বাঁধভাঙ্গা স্রোতের তোড়ে সর্বমহলের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ অভিযোগ ভেসে যায়। মেজর জিয়ার অবৈধ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল, হাজার হাজার সেনাকর্মকর্তা--রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা, গুম, খুনের বিভৎস সব কাহিনী ভুলে যায়। তদস্থলে সাধারন মানুষের বিশ্বাস এবং অবেগের পলিস্তর জমে উক্ত পরিবার এবং দলের প্রতি জনগনের মনের মণিকোঠায় উর্বরতার গাঢ প্রলেপ লৌহকঠিন আকার ধারন করে উর্বর ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল। 


     ফলস্বরুপ--জেনারেল এরশাদ দীর্ঘ নয়বছর শাসন ক্ষমতা পরিচালনার পর, এক সুসংগঠিত গনভ্যুত্থানে ১৯৯০ ইং সালের শেষের দিকে পতন ঘটে। কিন্তু সরকারের পতন হলেও এরশাদের রাজনৈতিক দল 'জাতীয় পার্টি'র সাংগঠনিক কাঠামো তৃনমূলে যথারীতি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। অপরদিকে প্রবল আত্মবিশ্বাসী, একাধারে--'জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বের গৌরব সমৃদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্ব, বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে সংগ্রাম, সাধনা, ত্যাগের মহিমায় মহিমাম্বিত এবং একমাত্র ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন "বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তৃনমূলে শক্ত গাঁথুনী বিরাজমান থাকাবস্থায় '৯১ এর সাধারন নির্বাচন ঘোষিত হয়।


   এখানে স্মরণযোগ্য--'বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এমন একটি  আদর্শিক সংগঠন--একনাগাড়ে ২১বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল  সামরিক, বেসামরিক সরকার শত নিপীড়ন, নিয্যাতন, হত্যা, গুম, খুন করেও  নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী দর্শন  সর্বসময়ে তৃনমূল থেকে উধ্বস্তরে শক্তিশালী দলীয় কাঠামো বিরাজমান রেখেছিল এবং এখনও আছে। এতসব ইতিবাচক দিক, মজবুত ভিত্তি থাকা সত্বেও আবেগের জনজোয়ারের স্রোতের মুখে আওয়ামীলীগ সহ সকল দলের আশা আখাংক্ষা ভাসমান কচুরিপনায় রুপান্তর হয়েছিল।


      বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য--বিএনপির দলীয় কাঠামো, আদর্শ, উদ্দেশ্য, উৎপত্তি, বিকাশ জাতীয় পার্টি'র সমরুপহেতু--এরশাদের একচ্ছত্র প্রভাবে  সম্পুর্ণভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।বিএনপি'র বাঘা বাঘা নেতাগন সম আদর্শের এরশাদের নতুন দল জাতীয় পার্টি এবং সমগোত্রের  সরকারে  যোগ দেয়। ফলে বিএনপি'র  তৃনমূলে দলীয় কাঠামো দূরে থাকুক--'অনেক জেলা কমিটি পুর্ণাঙ্গ ছিল না। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেয়ার নেতা ছাড়া বহু সংসদীয় আসনে যোগ্য প্রার্থী ছিলনা। জনবান্ধব, যোগ্যতা সম্পন্ন, শক্তহাতে জেলা, উপজেলা  পরিচলনা করার নেতা অবশিষ্ট ছিলনা। ফলে বিএনপি সম্পূর্ণ অপরিচিত সেনা আমলা, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দিয়ে লুটেরাদের রাজনীতির দরজা উম্মুক্ত করে দেয়। সমাজের অপরিচিত, রাজনীতিতে অদক্ষ এমনসব সংগঠকের কিঞ্চিত ভুমিকায় অশিক্ষিত গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়া'  প্রথমবারের মত(১৯৯১)সাধারন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জন করে দেশে বিদেশে চমক সৃষ্টি করে। 


   ৯১ এর সাধারন নির্বাচনে  অবকাঠামোহীন বিএনপি'র বিজয়ের পেছনে মূল কারন ছিল মেজর জিয়ার তথাকথিত সততার মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত জন  আবেগের বিজয়।  তথাকথিত সততার মিথ্যা প্রচারে এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তেমনি বেগম জিয়াও বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরশাদ নয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ গ্রহন করেছিল, বেগম জিয়াও রাজনীতিতে অবদানহীনবস্থায় সরকার গঠন করতে পেরেছিল। আমি মনে করি উভয় ব্যাক্তি এবং দলের উক্ত লাভ ছিল অত্যান্ত সাময়িক এবং ক্ষনস্থায়ী। বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জন আবেগ দ্রুত তিরোহীত হয়েছিল। দুই দলই গন অসন্তোসের মুখামুখি হতে হয়েছিল এবং দু দলের ফ্যাসীবাদী চরিত্র উম্মোচিত হওয়ায় গনভ্যুত্থানে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। 


    বেগম জিয়ার এই বিজয় আওয়ামীলীগ সহ বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের শুধু বিস্মিত করেনি--সারাবিশ্বকে স্তম্ভিত, হতবাক করেছিল।  সকল দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দিশেহারা, কিংকর্তব্যবিমূঢ, জড় পদার্থে পরিণত করেছিল। মূলত:৯১এর নির্বাচনে পরাজয় আওয়ামী লীগকে আগাছামুক্ত সুসংগঠিত দলে পরিণত করেছিল।  এই সুযোগটি গ্রহন করতে পেরেছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধু'র জৈষ্ঠকন্যার শেখ হাসিনার সুদুরপ্রসারী রাজনৈতিক দুরদর্শীতা, প্রাজ্ঞতা, এবং বিচক্ষনতার কারনে।


    তখনকার ভয়াবহ সময়ে শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে যদি না থাকতেন-'আওয়ামীলীগের নাম চিরতরে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যেত। শেখ হাসিনার বিচক্ষনতায় '৯১ এর সাধারন নির্বাচনে পরাজয় ৯৬ ইং সালের সাধারন নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগাছামুক্ত সুসংগঠিত দলে রুপান্তর করার সুযোগ এনে দেয়।সুসংগঠিত শক্তির প্রচন্ড গতিবেগ ক্ষমতায় আসার সিঁড়ি প্রস্তুত করেছিল।


     জাতীর জনক  বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠকন্যা, আজকের লৌহমানবী খ্যাত জননেত্রী 'শেখ হাসিনা' অকস্মাৎ এই পরাজয়ে মোটেও হতবাক হননি। তাঁর চলন বলন, কথাবার্তা, আচার আচরণ, খাওয়া দাওয়া এবং মুখায়বে অন্য সকল দিনের মত সম্পুর্ণ স্বাভাবিকতা বিরাজমান ছিল।ভাবখানা এমন ছিল যেন--"বহু আগে থেকে'ই তিনি জানতেন, এমন একটি পরাজয় তাঁর এবং দলের জন্যে অপেক্ষমান ছিল"। তিনি পরাজয় মেনে নিতে আগে ভাগে প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন"।


    জননেত্রী শেখ হাসিনার অন্তরে ব্যাঘ্র চিত্ত অথছ আচরনে ধীরস্থির সুস্থ্য এবং সাবলীল মস্তিস্কে বিচক্ষন, সাহষী এবং দুরদর্শী এক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। যাহা অতীতে এতদাঞ্চলের রাজনীতি বা সরকারে কখনই প্রচলিত ছিলনা ,বর্তমানেও প্রচলন নেই। তিনি তৎক্ষনাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর পদ সহ দলের সকল স্তর হ'তে পদত্যাগের দু:সাহষী সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন। ঘোষনানুযায়ী তাঁর সিদ্ধান্তে লৌহকঠিন অনড় ছিলেন। এই  কয়দিন পর ক্ষমতায় আসার দৃড আত্মবিশ্বাসী আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অকস্মাৎ পরাজয়ের গ্লানী--নিম্ন থেকে উধ্বস্তরে হতবিহব্বল, জ্ঞান শুন্যবস্থায় রেখে অকস্মাৎ তাঁর এই পদথ্যাগের সিদ্ধান্ত, দলের ভিতরে  বাইরে বড় রকমের ঝাঁকুনি দেয়। এই ঝাঁকুনি দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপুর্ণ সংশোধনীর দরজা অনায়াসে খুলে যায়।


  (১) শেখ হাসিনার তাৎক্ষনীক পদত্যাগ সারা বিশ্বকে বাংলাদেশের  রাজনীতি'র ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল।তিনি বিশ্বকে বুঝাতে চাইলেন যে--"বিএনপি'র এই বিজয় দলীয় আদর্শিক বিজয় নয় বা রাজনৈতিক দর্শনের বিজয়ও নয়"। এই বিজয় একান্ত বাঙ্গালী মননের শ্বাস্বত: আবেগের বিজয়। "সুতারাং এই বিজয়কাল অত্যান্ত ঠুনকো এবং ক্ষনস্থায়ী। শেখ হাসিনা তাঁর বার্তার গুরুত্বের প্রমান রেখেছেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়। 


  (২) আওয়ামীলীগের অতি আত্মবিশ্বাসী, বিশৃংখল নেতাকর্মীগন বিভিন্ন সংসদীয় আসনে আত্মকলহে লিপ্ত ছিল। নেতাদের উপদলীয় কোন্দলে সাধারন কর্মীরা বিপযস্ত ছিল। দল দ্বিধাবিভক্ত, অনেক ক্ষেত্রে ত্রিধাবিভক্ত  নেতাকর্মীরা পরস্পর কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যাস্ত ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৎক্ষনাৎ পরাজয়ের গ্লানী মূছে দলের অভ্যন্তরে সকল মহলকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসতে অকল্পনীয় ভুমিকা রেখেছিল। 


    আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে স্পষ্টত: দুটি ধারা বিরাজমান ছিল। একটি অংশ শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত অন্য অংশটি দলের প্রতি অনুগত হলেও নেত্রীর প্রতি ছিল অনিহা। নেত্রীর প্রতি অনিহা অংশটি'র প্রস্তাবক্রমে শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থানকালীন সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।দলের ঐক্য এবং বয়সে জুনিয়র নেত্রীর উপর খবরদারী করার মানষিকতায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন--পরবর্তি ঘটনা প্রবাহে তা স্পষ্ট প্রমানীত হয়।শেখ হাসিনা এবং দল উভয়ের প্রতি অনুগত অংশটি মুলত: আদর্শিক, ত্যাগী, নিবেদিত নেতাকর্মীদের অংশ। এদের ধারনা ছিল আওয়ামীলীগের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী দলের ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ব্যাতিরেকে অন্য কারো পক্ষে'ই তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশে কোন অবস্থায় সম্ভব নয়। 


    যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানীকতা পায়নি। সেহেতু বিভিন্ন নেতার বিভিন্নমূখী ধ্যান ধারনার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে শক্তিহীন হয়ে পড়বে। পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করার ক্ষেত্রে নেত্রীকে বাধ্য করতে সংঘবদ্ধ শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনে আওয়ামীলীগের অংশটি তড়িৎ সকল উপদলীয় কোন্দল ভুলে এক বিন্দুতে অবস্থান গ্রহন করে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিল। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির চাপে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।এই অংশের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ের ফসল গোলায় তুলতে শেখ হাসিনার বেশীদিন প্রয়োজন হয়নি। পরবর্তি আন্দোলন, সংগ্রাম এবং নির্বাচনে তাঁর  প্রমান পাওয়া যায়।তখন থেকে আওয়ামীলীগে একটি সত্য  বহুল আলোচিত এবং জনপ্রিয়তা পায়--"ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারবে না"।


 (৩) দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বিতীয় অংশটি'র মধ্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষনায় খুশীর বন্যা বয়ে যায়। তাঁরা বুঝতে'ই পারেনি দলকে এই মহুর্তে বিপযস্ততা কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করাই ছিল কঠিন এবং দু:সাধ্য কাজ। হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মী রাজনীতি বিমূখ হওয়ার পুর্বে তাঁদেরকে মাঠে ধরে রাখার কৌশল গ্রহন এবং নিয়ন্তর রাজনীতিতে নিবিষ্ট রাখাই ছিল তখনকার সময়ের দাবী। শেখ হাসিনার তাৎক্ষনিক পদত্যাগ বহুধাবিভক্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে পদত্যাগ পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।, ৫বছরের নিয়ন্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে মাত্র ৫ঘন্টায় নামিয়ে এনেছিল মাত্র একটি পদত্যাগের ঘোষনা।


     দলের প্রতি আনুগত্যশীল আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান জননেতাগন ধারনা পোষন করতেন--'শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিপক্কতা আসেনি।' তাঁর কাঁচা নেতৃত্বের কারনে দিন দিন দল জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত বালিকা সুলভ আচরন দলকে অস্তিত্ব সংকটে নিপতীত করছে। দলের এই অংশটির অনেকে সদ্য শুন্য হওয়া সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে দলের বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি শুভাকাংক্ষী, শুভানুধ্যায়ীদের শরণাপন্ন হয়ে দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা অকপটে প্রকাশ করেন।


    জননেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি তাঁদের কর্মকান্ড দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদী,অতিজ্ঞানী, অহংকারী পরিগনিত হওয়ার যথেষ্ট উপকরণ বিদ্যমান ছিল। অথছ তাঁদের প্রস্তাব এবং সমর্থনে 'শেখ হাসিনা'কে নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে তাঁরা মনে করেছিলেন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ শেখ হাসিনা তাঁদের পরামর্শেই দল চালাবেন।তাঁদের স্বপ্ন পূরন না হওয়ায় নেত্রীর প্রতি অনিহা প্রকাশ করতেন। নেতাদের নেতৃত্বের প্রতি অনিহা, আস্থাহীনতা, আনুগত্যহীনতা বার কয়েক দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।নেত্রী'র রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান গ্রহন করতেও অনেক বিজ্ঞ নেতাদের দেখা গেছে।এতে দেশে বিদেশে আওয়ামীলীগের দলীয় ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখিন হতে দেখা গেছে।


    তাঁদেরকে চিহ্নিত করতে উক্ত 'পদত্যাগ পত্র' মহৌষদের ব্যাবস্থা পত্রের কাজ করে। উক্ত মহৌষদটি বিজ্ঞ ডাক্তার শেখ হাসিনার' রাজনীতির নিপুন হাতে ধীরে সুস্থে প্রয়োগের ফলে অনেকে'ই রাজনীতির মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। কেউবা আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে নাম সর্বস্ব দলের সভাপতি সেজে আজীবনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে আত্মসুখ অনুভব করছেন অথবা জিঘাংসা চরিতার্থ করার সুযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।


    ৯১ইং সালের নির্বাচন পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা তৃনমূল থেকে উধ্বস্তর পয্যন্ত দল গুচিয়ে সমসায়িক জনস্মপৃত্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রনয়ন করেন।অত:পর তৃনমুল থেকে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি মনযোগ নিবিষ্ট করেন।তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পয্যন্ত যাওয়ার আগেই আন্দোলনে ব্যাপক জনসম্পৃত্ততার লক্ষন দৃশ্যমান হতে থাকে। বিএনপি সরকারের মাত্র সাড়ে তিন বছর শাসন অতিবাহিত হতে না হতে আওয়ামীলীগের আন্দোলনের ফসল মাঠে পাকতে শুরু করে।

    

    আওয়ামীলীগ সমমনা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি দল সঙ্গে নিয়ে, বলতে গেলে একক শক্তি'তে বিএনপি সরকারের অপশাসন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ ইং সালের প্রথমার্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ৯৫ইং সালের শেষদিকে উক্ত আন্দোলন 'শেখ হাসিনা'র নেতৃত্বে গনঅন্দোলনে রুপপরিগ্রহ করে। মাত্র দেড়বছরের কমসময়ে লাগাতার আন্দোলন ১৯৯৬ইং সালের মাঝামাঝি গনভ্যুত্থানের রুপপরিগ্রহ করে। উক্ত গনভ্যুত্থান 'বেগম জিয়া'কে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে ভূমিতে নামিয়ে আনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখহাসিনার নেতৃত্বে একই বছর অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে।


   বিশেষভাবে উল্লেখ্য--'৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের  বিজয় শুধুমাত্র দলের পুণ:ত্থান ঘটাতে পেরেছিল। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার পর্দার অন্তরালে রয়ে যায়। কারন আসনের দিক থেকে স্বল্প আসনের বিজয় দলের সম্পুর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা প্রতি পদে পদে বাঁধার দেয়াল তুলে রেখেছিল।উক্ত প্রতিবন্ধকতা দুর করার প্রক্রিয়া গ্রহন করতে গেলে তখনকার পরিস্থিতিতে সরকার ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা সবদিক বিবেচনা করে পরিবেশের প্রতিকুলে যাওয়া থেকে বিরত থেকে বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছিলেন।বাংলাদেশের পরবর্তি রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ তাই প্রমান করে।


     ২০০১ইং সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা সফল রাষ্ট্র পরিচালনা শেষে এবং শান্তিপুর্ন সহবস্থান বজায় রেখে, সাংবিধানীক রীতিনীতি অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তি ঘন্টা খানেকের মধ্যেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি'র ঈঙ্গিতে, তত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় আওয়ামী নিপীড়নের এক মহাতান্ডব অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী নিধন অভিযানের ন্যাক্কারজনক মহাযজ্ঞের দৃষ্টান্ত এবং এমন বিভৎস বর্বরতা বিংশ শতাব্দি জুড়ে বিশ্বের কোথাও হয়েছে কিনা জানিনা। এই বর্বরতা বহু শতাব্দি আগে প্রাক ইসলামী অন্ধকার  যুগের বর্বরতাকেও নিশ্চিত হার মানিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর, রাজাকার, আলবদর, দেশবিরোধী অশুভচক্র আওয়ামীশুন্য মাঠে একক নির্বাচনী খেলাখেলে পূণ:রায় তাঁদের বিশ্বস্ত প্রেতাত্বা খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে এবং তাঁর নেতৃত্বে সম্মিলীত অশুভশক্তির সমন্বয়ে জোট সরকার গঠন করে।


    অবশ্য এবারের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করাই ছিল বিএনপি এবং তাঁর মিত্র শক্তির রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের মন থেকে চিরতরে মুছে যাওয়ার শুভ সূচনা। দেশবিরুধী অশুভ শক্তির রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, লুটপাট, হত্যা গুম তাঁদের পতন নিশ্চিত করেছে, আমি মনে করি।


     প্রথমত:--৯১ইং এর খালেদা জিয়ার একক ক্ষমতা উপভোগের লোভ জনসমক্ষে অত্যান্ত দৃষ্টিকটু হয়ে ধরা দিয়েছিল। তদোপুরী উটকো বিপদ অশুভশক্তির ক্ষমতার ভীত পোক্তকরনের নিয়ন্তর প্রচেষ্টা দর্শনীয় ভাবে ফুটে উঠেছিল।-এই দুইয়ে মিলনে দারুনভাবে পরাস্ত হয়েছিল আকাশসম জন আবেগের সাগরসম প্রেম। ফলশ্রুতিতে জনআবেগ সহষা'ই জন অসন্তোসে রুপান্তরীত হয়।বেগম জিয়ার সরকার অপমানজনক বিধায় নিতে বাধ্য  হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে।


   ২০০১ইং সালে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিকট অশুভ শক্তির দ্বিতীয় পরিক্ষা ছিল। পরিক্ষায় উত্তিন্ন হওয়ার মানসে দেশব্যাপী আওয়ামী নিধনের মাধ্যমে একচ্ছত্র ক্ষমতা উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টায় সকল দেশবিরোধী অশুভ শক্তি এবং তাঁদের প্রেতাত্বা আওয়ামী নিধন অভিযানে ব্রতি হয়েছিল। আওয়ামী নিধান ঠিকই হয়েছিল, ক্ষমতায়ও এসেছিল। কিন্তু জনগনের মনের ক্ষোভের আগুনে দগ্ধ বিএনপি এবং তাঁর দেশবিরোধী অশুভ শক্তির রক্ষা হয়নি।


 পরিক্ষায় শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়  মূর্খ মহিলা খালেদা জিয়া সহ তাঁর লালিত অশুভশক্তি। এবার আর বেগম একা ছিলেন না-"সঙ্গে বেগমের দুই কুলাঙ্গার বালেগ পুত্র তারেক এবং কোকো" ছিল সমানতালে। ত্রিমূখী লোভের যাঁতাকলে পিষ্ট হয় দেশের অর্থনীতি। চরম অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে পরমবন্ধু ক্ষমতার লগ্নিকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তাঁদের এদেশীয় সর্বস্তরের তাঁবেদার দেশবিরুধী অশুভচক্র। 


   জাতীর জনকের জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা--জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা অসন্তোস এবং বিদেশী প্রভুদের মনক্ষুন্নতাকে বিচক্ষনতার সঙ্গে পরিচালনায় কৌশলি ভুমিকায় অবতির্ন হন। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাঁদের তাঁবেদার  রাজনৈতিক শক্তির ব্যর্থতায় তাঁদের উপর আস্থা হারিয়ে বিকল্প শক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এবার  লোকচক্ষুর অন্তরালের অপরিচিতদের নিয়ে সেনা সমর্থিত তাঁবেদার সরকার গঠন করে। তাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরনের উদ্যোগ গ্রহন করলে শেখ হাসিনা  বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িগড়ি দেশে আসতে চাইলে তত্বাবধায়ক সরকার বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সেনা সমর্থিত সরকারের বাঁধা উপেক্ষা করে তিনি  দেশে ফিরে আসেন। বিরাজনীতিকরনের প্রবক্তাগন উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষে পথের কাঁটা শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। জেলখানায় বসে শেখ হাসিনা তিনটি রাজনৈতিক গতিধারাকে সম্পুর্ণ নিয়ন্তন করতে সক্ষম হন।


    প্রথমত জিয়া পরিবারের লুটপাটে গড়ে উঠা জন অসন্তোস, দ্বিতীয়ত:  সাম্রাজ্যবাদী শক্তি'র অরাজনৈতিক ব্যাক্তিদের ক্ষমতায় বসিয়ে  বিরাজনীতিকরণ প্রচেষ্টায় মরণ কামড়, তৃতীয়ত: গ্রেপ্তার করার শত হুশিয়ারী উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসা মাত্র গ্রেপ্তারবরণ বাংলাদেশের জনগন সহজভাবে নিতে না পারাকে, সেনাসমর্থিত সরকারের বুকে কাঁপন তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা গ্রহন সফলভাবে পরিচালনা করা ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতির বিচক্ষনতা।


    সবমিলিয়ে অস্থিরতার চরম এক সময় জাতীর সামনে উপস্থিত এমত:বস্থায় 'শেখ হাসিনা ধীরস্থীর, অসীম ধৈয্য, প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষনতার সঙ্গে অস্থির সময়ের  মোকাবেলা করে সম্পুর্ণ সময়টিকে সফলভাবে নীজের করে নিলেন। তাঁর অনমনীয় মনোভাব, তিক্ষ্ণ রাজনৈতিক কুটচালের মারপ্যাচে সকল অশুভশক্তির চরম পরাজয় ঘটে।অবশেষে ২০০৮ ইং সালের সাধারন নির্বাচন ঘোষিত হলে উক্ত নির্বাচনে ভুমিধ্বস বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার গঠন করেন। এই বারই তাঁর নেতৃত্বের সফলতায় বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার দ্বিগুনশক্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ফিরে আসে।


      সরকার পরিচালনায় সর্বদিক থেকে সফল শেখ হাসিনা প্রথমে অতীতের তত্বাবধায়কের নামে অনির্বাচিত সরকারের ষড়যন্ত্রের মুল উৎপাটন করেন। দ্বিতীয়ত: নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেন।তৃতীয়ত নির্বাচনী অঙ্গিকারের প্রতি সর্বোচ্ছ মনোনিবেশ করার ফলে দ্রুত দেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত হয়। চতুর্থত: নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী ডিজিটালাইজেসনের উদ্যোগ শত প্রতিকুলতার মধ্যেও সফলভাবে এগিয়ে  নিতে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখায় তরুন প্রজম্ম সহ সর্বমহল শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে দেখা যায়।ফলে সরকার বিরোধী কোন আন্দোলনেই জনগনের সম্পৃত্ততা চোখে পড়েনা।


       শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিপক্ষতা, সরকার বিরোধী আন্দোলন সফলতার ক্ষেত্রে একক নেতৃত্বের দুরদর্শীতা, আন্তজাতিক রাজনীতিতে শক্তিশালী নেতৃত্বের আগমনি বার্তার বহি:প্রকাশ, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক শতভাগ সমুন্নত রেখে দীর্ঘযুগের পুঞ্জিভূত সমস্যার কূটনৈতিক সফলতা, রাষ্ট্র ও সরকারের কঠিন সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত দেয়ার সক্ষমতা, দেশের স্বার্থ শতভাগ অক্ষুন্ন রেখে বৈদেশীক চুক্তি সম্পাদনের পারঙ্গমতা, সর্বপোরী রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা তাঁর নিজের এবং আওয়ামীলীগ সংগঠনের জন্যে কাল হয়ে দাঁড়ায়।


  উল্লেখিত কর্ম সম্পাদনের ফলে অশুভশক্তির বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়ে পড়ে।এমত:বস্থায় ২০১৪ ইং সালের সাধারন নির্বাচন ঘোষিত হলে সাম্রাজ্যবাদী চক্র নির্বাচন ব্যাতিরেকে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টায় ব্রতি হয়। তাঁদের সকল শক্তি নিয়োগ করে দেশব্যাপী অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহন করে। একাজে বাংলাদেশের সকল মৌলবাদী ধর্মীয় গোষ্টি, রাজনৈতিক শক্তি, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, বিদেশী শক্তি একজোটে সরকার উৎখাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।


      মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে অসীম ধৈয্যের পরাকাষ্টা প্রদর্শন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত নির্বাচন সফল ভাবে সমাপ্ত করেন। সরকার গঠন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের পথে অনেকদুর এগিয়ে যেতে সক্ষম হন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন শীল দেশের তালিকায় অন্তভুক্তি'র চুড়ান্ত ঘোষনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।এই মাসের মধ্যে কোন এক শুভদিনে ঘোষনাটি আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    

     একদিকে উন্নয়নের জোয়ার অন্যদিকে রাজনৈতিক দুরদর্শীতায় জনমত পক্ষে রাখার প্রচেষ্টা--"দুইয়ে মিলে অশুভশক্তির সকল আস্তানা জনভারে গুড়িয়ে যেতে থাকে"। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি 'শেখ হাসিনা'র বিচক্ষন নেতৃত্বে কুপোকাৎ হয়ে শেষাবদি বশ্যতা স্বিকার নিতে বাধ্য হলেন। বাংলাদেশ বিরোধী অশুভশক্তি এবং তাঁদের রক্ষক প্রেতাত্বার একমাত্র প্রভু আমেরিকা।সেই আমেরিকা যুক্ত রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পয্যবসিত হয়।অত:পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ৭১ এর মানবতা বিরোধী বিচার ট্রাইবুনাল গঠন এবং শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি কায্যকর করাকে সমর্থন প্রদান করতে বাধ্য হয়।


    উক্ত বিচার কায্যক্রম সমর্থন করার অর্থই হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের বশ্যতা স্বিকার করে তাঁর কর্মকান্ডের বৈধতা আন্তজাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি প্রদান। দেশবিরোধী অশুভশক্তির বিরুদ্ধে নেয়া আইনী প্রক্রিয়া স্বীকৃতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা" কালবিলম্ব না করে অশুভশক্তির রক্ষক এদেশীয়  প্রেতাত্বার বিচার ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। তিনি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে অশুভশক্তির প্রেতাত্বা, মানবতা বিরুধী শক্তির পাহারাদার, মুক্তিযুদ্ধের পরোক্ষ বিরুধী শক্তির মুল হোতা 'বেগম জিয়া'র প্রচলিত আদালতের শাস্তি কায্যকর করার লক্ষে জেলে বন্দি করেন। বেগম জিয়ার আদালত কতৃক শাস্তি এবং কারাজীবন সম্মিলীত অশুভ শক্তির নিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে মাথায় শেষ পেরেক। বিগত কিছুদিনের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা পয্যবেক্ষনে দেখা যাচ্ছে সর্বশেষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে উৎরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বিরাজ করছে।


    জিয়া পারিবারের আজকের এই ন্যাক্কারজনক পরিণতি ডেকে আনে তাঁর পরিবারই। তথাকথিত প্রচারসর্বস্ব প্রয়াত সৎ রাষ্ট্রপতি শত সেনাভ্যুত্থানের নায়ক মেজর জিয়ার সৌখিন বিধবা পত্নি এবং তাঁর অসৎ বিয্যে জম্ম নেয়া দুই কুলাঙ্গার পুত্র। মা-ছেলের ত্রিমূখি লুটপাটের শাসনকাল দেশে-বিদেশে পরিগনিত হয় দুর্নীতি'র শীর্ষদেশে। বিশ্বব্যাংক কতৃক বাংলাদেশের দুর্নীতি মোহরকৃত  পাঁচবার। শীর্ষ দুর্নীতিবাজ দেশের তালিকায় পাঁচবার বিশ্বব্যাংক কতৃক সত্যায়িত হয়ে বাঙ্গালী জাতীর কপালে অঙ্কিত হয় কলংকের তিলক।

    

   দুর্নীতি'র নগদ প্রাপ্তির ফলস্বরুপ একছেলে মালয়শিয়ার জঙ্গলে জীবন হারিয়ে ইহজগতের শাস্তি থেকে কোনরকম বেঁচে গেছেন। বড় পুত্র  বিদেশের মাটিতে পরিবার সমগ্রসহ শত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িয়ে বার বার নায়কের ভুমিকায় অবতির্ন হয়ে দেশ ও জনগনের সম্মান, মায্যদা ভূলুন্ঠিত করে চলেছেন। তথাকথিত প্রচার প্রপাগান্ডা সর্বস্ব ভাঙ্গা স্যুটকেস, ছেঁড়া গেঞ্জীর সৎ রাষ্ট্রপতির পাপিষ্ট পত্নির ছেলে-সন্তান, দেশ-বিদেশের শতসহস্র বন্ধু, লুটপাটের হাজার হাজার কোটি টাকা, বেসুমার সম্পদ, গুলশানের প্রসাদসম বাড়ী, ডান্ডি ডাইং, কোকো জাহাজ সহ অজস্র স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ভোগের অবশিষ্ট আর কেউ'ই রইলনা।


   '৯১ এ শেখ হাসিনার পদত্যাগ দলের আগাছা পরিস্কার করে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছিল।ফলে সুসংগঠিত আওয়ামীলীগ ৯৬ এর নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেছিল। ২০০১ এর আওয়ামী নিধন অভিযান সরল প্রান আওয়ামী নেতাকর্মীদের তৎক্ষনাৎ নিস্তেজ করতে পারলেও সহসাই শেখ হাসিনার সফল নেতৃতে মনের ক্ষোভ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল। সেই আগুনের লেলিহান শিখা ক্ষমতার মসনদ পুড়ে চারখার করে দিতে পেরেছিল।


      তত্বাবধায়ক সরকারের দুইবছর সময়কাল পরবর্তি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস কেবলমাত্র শেখ হাসিনার ইতিহাস, আওয়ামী লীগের পুণ: জাগরনের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ঐক্যবদ্ধতার ইতিহাস, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব-বাঙ্গালী মননে সদর্পে ফিরে আসার ইতিহাস। দেশবিরুধী অশুভচক্রের পতনের ইতিহাস, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালানোর ইতিহাস। অশুভের প্রেতাত্বার পতনের ইতিহাস, দেশবিরুধী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির নিচ্ছিন্নের ইতিহাস। অন্যদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন করে সংযুক্ত হয় আর একটি পাতা। সেই পাতায় অবিশ্বাস্য চিত্তে  উন্নয়ন, অগ্রগতির মহিসোপানে উপবেশনের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে মুদ্রিত হয়েছে অনন্তকালের প্রজম্মকে দেশ ও জনগনের সেবায় উৎসাহীত করার লক্ষে। 


     পরবর্তি উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি লেখার অপেক্ষায় ২০১৮ইং সালের সাধারন নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠকন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা। ২০১৮ ইং সালের সাধারন নির্বাচন পরবর্তি সৃষ্ট ইতিহাসের নতুন পাতার সৃজনশীল স্রষ্টা একমাত্র জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা 'শেখ হাসিনা'। নতুন পাতার চরতে চরতে লেখা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাঙ্গালী জাতীর জনক, মহাকালের মহাননেতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের ইতিহাস। গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানীকতা দেয়ার ইতিহাস, সুশাসন নিশ্চিত করে কল্যান রাষ্ট্র বিনির্মানের ইতিহাস। দুর্নীতিমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলে উন্নয়ন অগ্রগতি নিরবচ্ছিন্ন রাখার ইতিহাস। 


    সৃজিত হবে সুখী, সমৃদ্ধশালী, উন্নত, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের  বাংলাদেশ। উক্ত সিঁড়ি বেয়ে  নিয়ন্তর চলমান থাকবে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার পুরণের মাধ্যমে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়ার ইতিহাস। এই ইতিহাস চলতে থাকবে প্রজম্ম থেকে প্রজম্মান্তরে।



লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কেবিন ক্রু বহিষ্কার

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কেবিন ক্রু বহিষ্কার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ...

ঘুরে দাঁড়ালো টিম বাংলাদেশ

ঘুরে দাঁড়ালো টিম বাংলাদেশ

আবুধাবিতে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে  আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারালো ...

‘স্বচ্ছ ঢাকা’ গিনেজ বুকে

‘স্বচ্ছ ঢাকা’ গিনেজ বুকে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘স্বচ্ছ ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ ...

মোংলা বন্দরে আগত বিদেশী জাহাজে কাস্টমসের হয়রানীর অভিযোগ

মোংলা বন্দরে আগত বিদেশী জাহাজে কাস্টমসের হয়রানীর অভিযোগ

মোংলা বন্দরে আগত বিদেশী জাহাজে তল্লাশীর নামে নানাভাবে হয়রানীর অভিযোগ ...

সীমান্তে নাটকীয় ভাবে ২০টন  কয়লা ও মাদকদ্রব্য পাঁচার:আটক ২টন

সীমান্তে নাটকীয় ভাবে ২০টন কয়লা ও মাদকদ্রব্য পাঁচার:আটক ২টন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত বালিয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ...

চাকুরী খুঁজতে গিয়ে চুরির অপবাদ : সালিসের নামে ডেকে দুই তরুনীকে ধর্ষন, আটক ৬

চাকুরী খুঁজতে গিয়ে চুরির অপবাদ : সালিসের নামে ডেকে দুই তরুনীকে ধর্ষন, আটক ৬

চট্টগ্রামে সালিসের নামে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে গন ধর্ষণের অভিযোগ ...

কাল ঢাবি’র খ ইউনিটের ফল প্রকাশ

কাল ঢাবি’র খ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষবর্ষের খ ইউনিট ১ম বর্ষ সম্মান ...

কানাডায় সিনহার মেয়ে আশা সিনহার একাউন্ট জব্দ

কানাডায় সিনহার মেয়ে আশা সিনহার একাউন্ট জব্দ

নিজের আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে বই লিখে নতুন করে ...