সম্পাদকীয়

  • যা বুঝার বুঝে গেছে জনগন

    যা বুঝার বুঝে গেছে জনগন

  • সবাই মিলে বাঁচতে চাওয়া

    সবাই মিলে বাঁচতে চাওয়া

  • একদিন পৃথিবীর পথে ফলিয়াছি...

    একদিন পৃথিবীর পথে ফলিয়াছি...

  • "মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

    "মানচিত্র যখন দাবার ঘর"!

  • শেখ হাসিনার প্রাণান্ত চেষ্টা স্থিতিশীল দেশ

    শেখ হাসিনার প্রাণান্ত চেষ্টা স্থিতিশীল দেশ

দেশবিরুধী অশুভশক্তির বিরুদ্ধে আর একটি যুদ্ধের প্রয়োজন--সেই যুদ্ধের হাতিয়ার হবে "সামাজিক আন্দোলন"।

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০১৮     আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০১৮

রুহুল আমিন মজুমদার,উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস

 বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। '৭৫ পরবর্তি সময় বাংলাদেশের সমাজ আসল সোনাকে নকল সোনা আর নকল সোনাকে আসল সোনা হিসেবে চিনে এসেছে।এক্ষেত্রে সমাজের দোষ দিয়ে লাভ নেই--গণ্ডমূর্খ কোন ব্যাক্তি যদি লম্বা দাঁড়ি, মাথায় বিরাট  পাগড়ি বেঁধে এসে বলে--আমি বুজর্গ মাওলানা।অবিশ্বাস করার কি থাকতে পারে।তাঁর ভিতরে এলেম আছে কি নেই- হাত দিয়ে তো আর দেখা যায়না। নিশ্চয়ই তখন এলাকার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের অপেক্ষায় থাকতে হবে,কেবল তখনই মাওলানা সাহেবের জারিজুড়ি দেখার সুযোগ মিলবে।

 বংলাদেশের রাজনীতি ক্ষেত্রেও বিগত চল্লিশবছর হয়েছে তাই। যারা এই দেশের অভ্যুদ্বয় হোক চায়নি,মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছে, মুক্তি্যুদ্ধের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ভাবে বিভ্রান্ত করেছে--তাঁরাই সেজেগুজে এসে বলছে আমরাই দেশ স্বাধীন করেছি, আমরাই মুক্তিযোদ্ধা। মানুষ বিশ্বাস না করে উপায় আছে? বক্তব্য উপস্থাপনাগুনে অনেকে'ই বিশ্বাস করেছে ঠিকই, তবে প্রকৃত দেশপ্রেমিকেরা মোক্ষম সময়ের জন্যে অপেক্ষায়ও ছিল।

সরকার যখনই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে চিহ্নিত মানবতা বিরুধী অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান প্রক্রিয়া গ্রহন করে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে--তখনই তথাকথিত স্বাধীনতার ধারক বাহক, মুক্তিযোদ্ধা দলের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করে। প্রানের বন্ধুদের রক্ষা করতে তিলেতিলে গড়া নিজের সাজানো বাগান উৎসর্গ করতেও আর কার্পন্য করছেনা। বাংলাদেশের  মানুষ তাঁদের প্রকৃত পরিচয় স্বচক্ষে দেখলো,জানলো কারা দেশবিরুধী অশুভ শক্তি'র প্রেতাত্বা কারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দেশ প্রেমিক। বাংলাদেশের মানুষের নিকট স্পষ্টত: সকল পক্ষের  অবস্থান পরিস্কার হয়ে গেছে।

 দীর্ঘবছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, অঙ্গিকারের সঙ্গে সম্পুর্ণ প্রতারণার আশ্রয় গ্রহন করে, দেশবিরুধী শক্তি বাংলাদেশ শাসন করেছে।তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্কার--ক্রমান্বয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার থেকে বিচ্যুত করে পাকিস্তানী ধারায় ফিরিয়ে নেয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় মুক্তিকামী জনগন ত্রিশলক্ষ শহীদ,পৌনে তিনলক্ষ মা-বোনের ইজ্জত, বেসুমার সম্পদহানী'র বিনীময়ে, দীর্ঘ নয়মাসের সম্মুখযুদ্ধে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সুতারাং কষ্টার্জিত স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরুধী কোন শাসক কোনকালেই মেনে নিবেনা।সুতারাং সর্বাঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনগনের মানষিকতা পরিবর্তন করতে হবে--দেশবিরুধী অশুভশক্তি সেই চেষ্টাই করেছিলেন।

 স্বাধীনতার স্থপতি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদ দখল করে। মুক্তিযুদ্ধকে'ই তাঁরা প্রধান উপজিব্য করে সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয় গ্রহন করে এতকাল দেশ শাসন করেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে ধীরে ধীরে  মুক্তিযুদ্ধের সকল প্রকার উৎস, চেতনা, অঙ্গিকার তাঁরা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল।স্বাধীনতার মূলমন্ত্র--'পবিত্র সংবিধান থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চেয়েছিল'। দীর্ঘ শাসনে আংশিক সফল হলেও পূর্ণাঙ্গ সফল তাঁরা হতে পারেনি, তাঁর আগেই মূখোষ খসে পড়েছে, আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। 

দীর্ঘকাল পর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল দেশশাসনের সুযোগ পেয়ে দেশদ্রোহী রাজাকার, আলবদর তথা মুক্তিযুদ্ধের বিরুধী শক্তি, মানবতার শত্রুদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। সত্যিকার অর্থে তখনি কেবল অশুভ দেশদ্রোহী, প্রেতাত্বা সহ সকল মহলের মূখোষ উম্মোচিত হতে থাকে। বর্তমান সময়ে এসে  স্পষ্টত: দ্বিধাবিভক্ত--একদিকে স্বাধীনতা বিরুধী সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহক অপরদিকে স্বাধীনতা প্রিয় দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি। এই বিভক্তি দেখার জন্যে এখন আর অনুবিক্ষন যন্ত্রের প্রয়োজন নেই।

 বাংলাদেশ বিরুধী অশুভশক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের মানুষের চোখে ধুলা দিয়ে দীর্ঘকাল দেশ শাসনের সুযোগে বাংলাদেশের সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।তাঁদের'কে বাংলাদেশের সমাজ থেকে উচ্ছেদ ব্যাতীত উন্নয়ন, অগ্রগতি চলমান রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মান সম্ভব--যারা চিন্তা করেন, 'তাঁরা বাস্তবক্ষেত্রে বোকার স্বর্গেই বাস করেন'। ইদানিং লক্ষ করলে দেখা যায়--মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের সরকার মানবতা বিরুধী অশুভশক্তির মূল উৎপাটনে এক পা' এগিয়েছে তো তিন পা' পিছিয়ে আসছে। 

অবশ্য এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ দলকে আমি এককভাবে দোষ দিতে চাইনা। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য একটাই--কন্টাকাকীর্ণ, নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা উপভোগ। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার এর থেকে বাদ যাবে কেন? যে শ্রেনীটি দেশবিরুধী  অশুভ শক্তি'র বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দেশপ্রেমিক শক্তি'র উপর ভরসা করে তাঁদেরকে রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় বসিয়েছে,সেই শ্রেনীটি ইতিমধ্যে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত, অসংগঠিত,একে অপরের কুৎসা রটনায় ব্যাস্ত।

 লক্ষ করলে দেখা যায়--মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির আপামর জনগন ঐক্যবদ্ধ থাকাবস্থায় সরকার পিছিয়ে আসার সাহষ দেখাতে পারেনি। দেশবিরুধী শক্তি চিহ্নিতকরন, তাঁদের অর্থের উৎস সন্ধান, আখড়ার অনুসন্ধান ঠিকই এগোচ্ছিল। যখনই সংগঠিত শক্তি বিচ্ছিন্ন হয়েছে তখনি সরকারীদল সকল কর্মকান্ড থেকে হাত গুটিয়ে ক্ষমতা উপভোগে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।তাই বলি-- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি যতক্ষন না আবার সংগঠিত হচ্ছে ততক্ষন দেশবিরুধী শক্তি'র কর্মকান্ড বন্ধ করার কোন পদক্ষেপ সরকার নিবেনা। সুতারাং যে কোন মুল্যে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে, স্বাধীন দেশের মুক্ত হওয়ায় বসবাসের প্রয়োজনে,আগামীর প্রজম্মের বাসযোগ্য দেশ গড়ার স্বার্থে অতীতের ন্যায় আবারো একতাবদ্ধ হয়ে অশুভ দেশবিরুধী শক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে "সামাজিক আন্দোলন" গড়ে তোলা ব্যাতিরেকে কোন উপায় নেই। 

 এই মহুর্তে যাহা প্রয়োজন--প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার অধিকারী ছাত্র যুবক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান,শহীদ বুদ্ধিজীবি পরিবারের অকুতোভয় সন্তানদের সর্বাঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। দেশবিরুধী শক্তির মুল উৎপাটনে আরেকবার সকল শক্তি নিয়ে রাজপথে নামতে হবে।  মহান মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু বীর যোদ্ধাদের পরিবার বর্গ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ছাত্র জনতা, আধুনিক ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন তরুন যুবক-যুবা তথা দেশপ্রেমিক প্রগতিমনা নাগরীকদের দায়িত্ব রয়েছে আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার।সর্বমহলের আর কালবিলম্ব না করে এখনি দেশবিরুধী অশুভশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিৎ।

একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিরবিচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে দেশ ও জনগনের ক্রান্তিকালে সবাইকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সম্মিলীত প্রচেষ্টায় সকল প্রকার দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করা প্রয়োজন।ঘরে শত্রু পোষন করে বাহিরের শত্রুর সংঙ্গে যুদ্ধ করা যায়না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রগতিশীল সংগঠন সমূহের  আদর্শিক দায়িত্ব রয়েছে--দূর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান পরিস্কার করা। বাংলাদেশের উন্নতি, অগ্রগতির ধারা অক্ষুন্ন রাখতে অতীতের ন্যায় সকলের সম্মিলীত প্রয়াস গ্রহন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

 অশুভ দেশবিরুধী শক্তির মুখোস খুলে পড়ায় রাজপথে সাময়িক আস্ফালন বন্ধ হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাঁদের শক্তি সামর্থ্যের কোন ঘাটতি রয়েছে আমি মনে করিনা। ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার কারোই  ধারনা করা উচিৎ নয়--দেশবিরুধী শক্তির শীর্ষস্থানীয় কতিপয় ব্যাক্তি'র শাস্তি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে  চলে আসা দেশী-বিদেশী চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে গেছে। কারোই ধারনায় আসা উচিৎ নয়--মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি'র ঐকান্তিক চেষ্টা এবং দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাধনায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো প্রিয় রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনায় রয়েছে।সুতারাং তাঁরাই দেশবিরুধী শক্তি'র ক্ষমতা, পারঙ্গমতা, অর্থের উৎস, ষড়যন্ত্রে'র আখড়া সমূহ গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে, আমরা বসে বসে শুধু পতন উপভোগ করবো। 

সরকার ইতিমধ্যে দেশ পরিচালনায় দুই মেয়াদে ১০বছরের শেষ বছরে অবস্থান করছে। চলতি বছরের শেষের দিকে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সরকারের প্রথম বছর নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী দেশবিরুধী শক্তি উচ্ছেদ কল্পে '৭১এর মুক্তিযুদ্ধে দেশবিরুধী মানবতার শত্রুদের বিচারের ক্ষেত্রে যে সমস্ত শুভ উদ্যোগ গ্রহন করেছিল,কতিপয় শীর্ষ অপরাধীর শাস্তি কার্যকর ব্যাতিরেকে এক্ষেত্রে দৃশ্যত: আর কোন অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মানের ক্ষেত্রে বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে উল্লেখিত কতিপয় ব্যাক্তির বিচার প্রক্রিয়া একটি অংশের যৎসামান্য অংশ মাত্র। 

শীর্ষ অপরাধীদের মধ্যে কতিপয় ব্যাক্তির বিচার প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে ঠিকই কিন্তু বিচারের আওতার বাহিরে রয়ে গেছে অনেকে'ই। তাছাড়া জাতীর জন্যে অতীব প্রয়োজনীয় কর্মসাধনে সরকার এখন পয্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।এবং কি দন্ডিত মানবতা বিরুধী  অপরাধী ব্যাক্তিবর্গের স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের পক্ষে বাজেয়াপ্ত করার আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান গ্রহন করা এবং আদালত কতৃক স্বিকৃত জামায়াতে ইসলামী'র রাজনীতি স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রেও সরকার সম্পূর্ণ ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। অথছ আদালতের পয্যবেক্ষন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে বহু আগেই সর্বমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের সরকার--মুক্তিযোদ্ধেদের সরকারের এ ক্ষেত্রে ব্যার্থতা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

তাছাড়া দেশবিরুধী অশুভশক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র সমূহ--এখন পয্যন্ত রাষ্ট্রশক্তির ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।  রাষ্ট্র সেই সমস্ত বিষয়গুলী' চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের দোদল্যমানতা এক্ষেত্রে রাষ্ট্র  কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। এই অবস্থায় দেশপ্রেমিক মুক্তিযূদ্ধের পক্ষশক্তি নীজেদের নিরাপদ ভাবার কোন কারন থাকতে পারেনা। ইতিমধ্যে দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় অশুভশক্তি'র  বিপুল অর্থের সন্ধান পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আরো একটি চাঞ্চল্যকর খবরে প্রকাশ হয়েছে---"আন্তজাতিক একটি শক্তিশালী 'লবিং ফার্ম'কে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরছ করে সার্বক্ষনিক বাংলাদেশ বিরুধী তৎপরতায় তাঁরা নিয়োজিত রেখেছে"। রাষ্ট্র এবং সরকারের সর্বমহলে বিষয়টি অবগত থাকা সত্বেও উক্ত অর্থ উদ্ধার এবং আন্তজাতিক আইন-কাঠামোর অধিনে উক্ত 'লবিং ফার্ম'কে নিস্তেজ করার কার্যকর কোন পদক্ষেপ রাষ্ট্র অদ্যাবদী গ্রহন করতে পারেনি।

ইতিমধ্যে আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, মহসীন আলী, ছায়েদ আলী সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির আরো অনেক আদর্শবান নেতার তিরোধান ঘটেছে। এতেও  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি অনেকটা নেতৃত্বশুন্য হয়েছে। আপামর জনগন শংকিত--তাঁদের আশ্রয়স্থল প্রানের রাজনৈতিক সংগঠন সমূহ দিন দিন অনাদর্শিক ক্ষেত্র বিশেষে বিপরীত আদর্শের নেতাকর্মীদের পদভারে ভারাক্রান্ত। জামায়াত, শিবির, যুদ্ধপরাধী পরিবারের সন্তান, শান্তিবাহিনী,ধর্মীয় উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্টির প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ক্যাডার সহ দেশবিরুধী শক্তি'র বহু নেতাকর্মী অঞ্চল ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির রাজনৈতিক দল সমূহের শীর্ষপদে আসীন হয়েছে। এসংক্রান্ত খবর প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।সরকারের প্রশাসনযন্ত্রেও আওয়ামীলীগের দুর্বৃত্তনেতাগন অর্থের বিনিময়ে অথবা আত্মীয়তার সুত্রে জামায়াত, শিবির,জঙ্গিগোষ্টি'র অসংখ্য নেতাকর্মীকে পুর্ণবাসন করার খবর প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে। বিগত কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরপত্তা বেষ্টনীতে এমন একটি জঙ্গি গোষ্টি'র অস্তিত্ব ধরা পড়েছে-- পত্রিকায় খবর এসেছে। বিমান বন্দরে এই সেই দিন জঙ্গি দলের এক যাত্রিবাহী বিমানের পাইলটকে আটক করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। 

 এমতবস্থায় বিরাজমান পরিস্থীতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন মানুষ শংকিত না হয়ে পারেনা।  আদর্শবান নেতাকর্মীদের রাজনীতি বিমুখতা থেকে ফেরানো'র তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ রাজনৈতিক দলগুলী'র দেখা যাচ্ছেনা।এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই অশুভশক্তির অনুচরদের দখলে চলে যাবে--মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ। ইতিমধ্যে তাঁর কিছু কিছু নমূনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ বেশ কিছু মন্ত্রনালয় মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার বিরুধী এবং জনমনে প্রভাব বিস্তারকারী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে। "দল এবং সরকারের নীতি, আদর্শ বিরুদ্ধ" হওয়া সত্বেও উক্ত সিন্ধান্ত সমূহ যথাযথভাবে কার্যকর  হতেও দেখা গেছে। এতে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি'র নিবেদিত প্রানে শংকার দিকটি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সকল মহলে ঘুরে ফিরে একটিই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে--তাঁদের প্রানের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ আদৌ তাঁদের যুগেযুগে লালিত নীতি আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে পারবে কিনা।

জনমনে শংকার বিষয়টি দাঁনা বেঁধে উঠেছে সাম্প্রতিক কালে--তাঁদের শ্রমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত প্রিয় রাজনৈতিক শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার মৌলিক কাজ গুলী সম্পন্ন করা ব্যাতিরেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। দেশবিরুধী শক্তি উচ্ছেদ করার সকল কার্যক্রমে মাঝপথে থেমে থাকাটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে আরো বেশী আশংকিত করে তুলেছে। ইতিমধ্যে অশুভশক্তির আঁতের খবর জানা একাধিক বিশিষ্টজনের আশংকাজনক লেখালেখি দেশী বিদেশী মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের লেখার বিষয়বস্তু'র প্রতি নজর দিলে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ধারনাকৃত আশংকার চেয়ে আরো ভয়ানক এবং বিভৎস রুপে আগামী'র বাংলাদেশকে তাঁরা চিত্রিত করেছে। সংগত কারনে জনমনের আশংকা ব্যাক্তিতে, সমাজে, রাষ্ট্রে,  প্রশ্নাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনমনে ঘনিভূত আশংকা দুরিকরনে করনীয় বিষয় যাওয়ার আগে দুটি ঐতিহাসিক সফল সামাজিক আন্দোলনের বিশদ বিবরনী তুলে ধরে তাঁর প্রাপ্তি সম্পর্কে সকলকে কিঞ্চিত ধারনা দেয়া প্রয়োজন মনে করি---


(১) গন আদালত গঠনের প্রেক্ষাপট ও তাঁর সুফল প্রাপ্তি-


৯০ এর স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনের রুপরেখা পায়েদলে বিএনপি জামায়াতের সমর্থনে ৯১ ইং এর সাধারন নির্বাচনে জয়ি হয়ে সরকার গঠন করে। সরকার গঠন করার পর পরই দলটি স্বরুপে ফিরে যায়। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের প্রধান হোতা, পাকিস্তানী নাগরিক, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমীর "গোলাম আযম''কে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।এই সময়ে  মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল পাকিস্তানী প্রেতাত্বাদের পদভারে প্রকম্পিত হতে থাকে। চতুর্দিকে রাষ্ট্রীয় ইন্ধনে হত্যা, লুট, গুম খুনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি নিচ্ছিন্ন করার তোড়জোড় পুরুদমে শুরু করে। ঠিক তখনই ত্রানকর্তা রুপে আবিভূত হন--মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রুমী'র 'মা'--"শহিদ জননী জাহানারা ঈমাম"।তিনি বিক্ষিপ্ত, শক্তিহীন,অসংগঠিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছোটবড় সকল সংগঠনকে সংগঠিত করে একমঞ্চে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহন করেন।


মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর  মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সংগঠন সমূহ সহ সর্বমোট ৭০টি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি সংগঠনের সমন্বয়ে তিনি গড়ে তোলেন '৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। অল্পসময়ের মধ্যে বাংলাদেশের আপামর জনগন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, প্রগতিশীল চিন্তাধারার ছাত্র জনতা আন্দোলনে সম্পৃত্ত হতে থাকে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের গ্রাম, গঞ্জ, শহর, বন্দরে। জনতার স্বত:স্ফুর্ত দাবীর মুখে গঠন করা হয় শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতিকী বিচারের নিমিত্তে "গনআদালত"। "গনআদালতে"র উপস্থিত স্বাক্ষীদের সাক্ষনুযায়ী গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি হত্যা,খুন, ধর্ষনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।১২ জন বিচাপতির সমন্বয়ে গঠিত গনআদালতের চেয়ারম্যান "শহিদ জননী জাহানারা ঈমাম" ২৬ শে মার্চ ১৯৯২ ইং সালে যুদ্ধাপরাধী, নরঘাতক 'গোলাম আযমের' মৃত্যুদন্ড যোগ্য অপরাধের প্রতিকী রায় প্রদান করেন।

    

প্রিয় পাঠক বন্ধুগন--শহিদ জননী 'জাহানারা ইমামের' সেই দিনের  গনআদালতের রায়ে গোলাম আযমের ফাঁসি হয়নি সত্য কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির গনজাগরন সৃষ্টি হয়েছিল। উক্ত সামাজিক আন্দোলনে সৃষ্ট গনজাগরনের সমূদয় ফসল একতরফা গোলায় ভরতে পেরেছিল প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারীদল "বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ"। যে দলটি বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন, আগোছালো, সংগঠনহীন বিএনপি' দলের নিকট ৯১ইং এর সাধারন নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল--সেই একই দল '৯৬ ইং সালের সাধারন নির্বাচনে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত বিএনপি'কে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। নি:সন্দেহে বলা যায়--'গনআদালতে'র সৃষ্ট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির "গনজাগরনে"র সমূদয় ফসল বৃহৎ দল 'বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে'র ঘরে এককভাবে উঠায়, জাতীরজনকের কন্যা'র নেতৃত্বে সরকার গঠন করা সম্ভব হয়েছিল।


   (২) গনজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও প্রাপ্তি:--


২০০৮ইংসালের ঘোষিত সাধারন নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সংস্কারের প্রতি মনযোগী হন। রাষ্ট্রের সর্বত্র স্থীরতা ফিরিয়ে এনে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে "রুপকল্প ২০২১" রুপরেখা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

অন্যদিকে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গিকার অনুযায়ী মানবতা বিরুধী, দেশ বিরুধী রাজাকারের বিচার কার্যকম শুরু করেন। মহান জাতীয় সংসদে এতদসংক্রান্ত আইন-কাঠামো প্রনয়ন, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে ৭১ এর "মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া গ্রহন কল্পে "আন্তজাতিক মানবতাবিরুধী অপরাধ বিচার ট্রাইবুনাল" গঠন করেন। যথারীতি বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়--উক্ত বিচারকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলাম এবং তাঁদের প্রধান জোট সঙ্গি বিএনপি নানামূখি দেশবিরুধী তৎপরতা শুরু করে। একপয্যায় তাঁদের আন্দোলন সহিংসরুপ ধারন করে। দেশব্যাপী নাশকতা,আগুন বোমায় মানুষ হত্যা, গুলি করে হত্যা, গুম, রাহাজানীর তান্ডব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশব্যাপী অস্থীতিশীল পরিস্থীতি সৃষ্ট্রি করে। অরাজকতা সৃষ্টি'র মাধ্যমে প্রয়োজনে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্ট্রিতে সচেষ্ট থাকে। সরকারের বিচার বিভাগকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে হরতাল, অবরোধ, নাশকতার মাধ্যমে জনজীবন অচল করার প্রক্রিয়া গ্রহন করে।এতে রাষ্ট্রের এজেন্সি সমূহ ভীত হয়ে পড়ে।আন্তজাতিক মানবতা বিরুধী বিচার ট্রাইবুনাল মানবতা বিরুধী অপরাধে অভিযুক্ত শীর্ষ অপরাধি কাদের মোল্লার জন আক্ষাংকিত রায়ের বিপরীতে রায় প্রদান করে। 

৭১ এর শীর্ষ মানবতা বিরুধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কবি সাহিত্যিক মেহেরুন নিসা সহ ৩৪৪জন মানুষ হত্যার অভিযোগ প্রমানীত হওয়ার পরও তাঁকে ট্রাইবুনাল মৃত্যুদন্ড না দিয়ে যাবজ্জিবন সাজা প্রদান করে।কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে--শহীদ বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান,প্রগতিশীল ছাত্রযুবকদের অন-লাইন এক্টিভিষ্টগন ২০১৩ ইং সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী ঈমরান এইছ সরকারের নেতৃত্বে শাহবাগ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। তাঁদের আন্দোলনে সাড়া দিয়ে ঢাকার লক্ষলক্ষ মানুষের  স্রোত শাহবাগমূখি হয়ে পড়ে। অবস্থানস্থল শাহবাগ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অল্প কয়দিনের মধ্যে উক্ত আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।সরকার বাধ্য হয় আন্তজাতিক আদালতের পুর্বে গৃহিত আইন সংশোধন করে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের আপিল সহ সর্বচ্ছো আদালতে রায় রিভিউ এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার  সুযোগ নিশ্চিত করে আইন প্রনয়ন করতে। 

এদিকে অশুভ দেশবিরুধী শক্তি এবং তাঁদের প্রেতাত্বারা শাহবাগে অবস্থানকারীদের  নাস্তিক্ এবং সরকারকে 'ইসলাম বিদ্বেসী' আখ্যা দিয়ে ঢাকার ব্যাস্ততম এলাকা মতিঝিলের শাফলা চত্বরে  অবস্থানের  ঘোষনা প্রদান করে। মতিঝিল শাফলা চত্বরের অরাজনৈতিক কর্মসুচি বাস্তবায়নের পুর্বেই তাঁরা দেশব্যাপী অরাজকতা নাশকতা, ধ্বংসলীলার তান্ডবে মেতে উঠে। যথারীতি সরকার গনতান্ত্রিক কাঠামো অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সকাল সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসুচির অনুমতি প্রদান করে। লক্ষলক্ষ উলামা মাশায়েখ শাফলাচত্বরে জড়ো হয়-একপয্যায় তারা একদিনের কর্মসূচিকে সরকার পতনের কর্মসুচি আখ্যা দিয়ে লাগাতার অবস্থানের ঘোষনা প্রদান করে। বাহির থেকে অরাজনৈতিক ওলামা মাশায়েখদের অবস্থানকে সর্বতো সমর্থন যোগাতে থাকে রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ সকল দেশবিরুধী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

রাজনৈতিক শক্তি'র সমর্থন পেয়ে ওলামা-মাশায়েখের অরাজনৈতিক দল  মতিঝিল এলাকা সহ আশপাশে লুটপাট, অগ্নিসংযোগে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাঁরা একপয্যায় স্বর্ণের দোকান, ব্যাংক, বীমা লুট ও অগ্নিসংযোগ এবং  কোরানের শতশত কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনতর অরাজনৈতিক কর্মকান্ডে রাষ্ট্রবিরুধী অশুভ চক্রের প্ররোচনায় হঠকারীতার আশ্রয় গ্রহন ও সরকার পতনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংগতভাবে সম্মানীত ওলামা-মাশায়েখের অরাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রের কোপানলে পড়ে। রাষ্ট্র তাঁর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মধ্যরাতে তাঁদেরকে শাফলাচত্বর ছেড়ে যেতে বাধ্য করে।-দেশ ও জাতী এক গভীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে এই যাত্রা রক্ষা পায়।

এখানে একটি বাস্তবসত্য স্বিকার না করে পারিনা। আমাদের প্রিয় ধর্ম ইসলামকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ওলামা-মাশায়েখদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনে রাজনৈতিক অবয়ব সংযোজনের মাধ্যমে সরকার বিরুধী আন্দোলন দাঁনা বেঁধে উঠার প্রাক্কালে, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পয্যায়ের লুটেরা, দুর্বৃত্ত নেতৃবৃন্দ দেশ ছেড়ে পালাতে থাকে। বাদবাকী আওয়ামীলীগের মূলস্রোতের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী'র কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে সহযোগীতার মানসে কোনরুপ রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহন করা থেকে বিরত থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বতোভাবে শাহবাগের আন্দোলনকারীদের উপর নির্ভশীল হয়ে পড়েন। 

এখানে'ই বঙ্গবন্ধু কন্যার রাজনৈতিক বিচক্ষনতার পরিচয় ফুটে উঠেছে।একদিকে তিনি রাজনৈতিক হানাহানী নিয়ন্ত্রন অন্যদিকে সরকার বিরুধী শক্তিকে শক্তি প্রদর্শনের অবাধ সুযোগ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করেন। সরকার বিরুধী রাজনৈতিক দল দেশের বিশাল শক্তি আলেম সমাজের সমর্থন পেয়ে ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে, অন্যদিকে আলেম সমাজ সুদীর্ঘকালের মধ্যে নীজেদের সামথ্য প্রকাশে উৎগ্রিব হয়ে পড়ে। উভয়শক্তির রাজনৈতিক অপরিপক্কতার কারনে অতিসহজে শেখ হাসিনার পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে সকল স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যায়।

শেখ হাসিনা অরাজনৈতিক শক্তিকে অরাজনৈতিক শক্তির দ্বারা প্রতিহত করার কৌশল গ্রহন করেন। শাহবাগের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হেফাজতে ইসলাম দেশবিরুধী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করে সরকারের পতন ঘটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে ''শেখ হাসিনার পাতা ফাঁদে" আটকে যায় সরকার বিরুধী আন্দোলন। সহিংসতাকে পুঁজি করে সরকার রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগের সুযোগ গ্রহন করে চিরতরে আন্দোলন স্তব্দ করে দিতে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা, সামাজিক স্থিরতা, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখার স্বার্থে উক্ত আন্দোলন দমনকে--কোনপক্ষ অগনতান্ত্রীক, দমনপীড়ন, গনতান্ত্রিক অধিকারহরন ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত সুযোগ পায়নি। 

    

বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র সমূহ বিএনপিকে অরাজক পরিস্থীতি সৃষ্টির কারিগর চিহ্নিত করে সকল প্রকার নৈতিক সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।তদস্থলে শেখ হাসিনার ভোটার বিহীন নির্বাচনে বিজয়ী  সরকারকে সার্বিক সহযোগীতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করতে থাকে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দুরদর্শিতার নিকট চরমভাবে পরাজিত হয়ে সরকার বিরুধী দল সমূহ বিগত চার বছরের মধ্যে একদিনের জন্যেও রাজপথে নামার সাহষ দেখাতে পারেনি। রাজপথ আন্দোলন শুন্যতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার উন্নত, সমৃদ্ধ, প্রযুক্তি নির্ভর 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষে "রুপকল্প ২০২১" বাস্তবায়নে সম্পুর্ণ মনযোগ নিবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়। ফলে নির্দিষ্ট  সময়ের আগেই "মেঘা উন্নয়ন প্রকল্প" সমূহ দৃশ্যমান হতে থাকে এবং ফলও আসতে থাকে।  সরকারের চারবছর শেষে বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পয্যায় পৌঁছে। অর্থনীতি ফুলেফেঁপে তিন/চার গুন বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সুচক উধ্বমূখী হতে হতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দুই অংকের ঘর ছুঁই ছুঁই করছে। অর্থনীতি'র চাকা সচল থাকায় পদ্মাসেতুর ন্যায় বৃহৎ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করার সাহষ বাংলাদেশের ন্যায় তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ দেখাতে পেরেছে।  বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয় সরকার।


চিহ্নিত দেশবিরুধী অশুভশক্তি উচ্ছেদে বর্তমানে করণীয়:---

এমতবস্থায় শীর্ষে উল্লেখিত বিবরণের আলোকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির অভ্যন্তরীন শৃংখলা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতীতের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধের সকল বিচ্ছিন্ন শক্তিকে একত্রিত করে সংঘবদ্ধ শক্তিতে রুপান্তরের বিকল্প নেই। সংগঠন সমূহের শৃংখলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দুর্বৃত্ত দেশবিরুধী শক্তির উৎসমূলে রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদেরকে নিস্তেজ করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। বুর্জুয়া শ্রেনীভুক্ত আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্ন দল সমূহ তাঁদের শ্রেনীস্বার্থে কাজটি সহজে করবে আশা করা যায়না।এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির আপামর জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়োজনে নিম্নে কতক প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরছি।


    (১) দুর্নীতি দমনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন, চলমান দূর্নীতিবিরুধী অভিযানের গতি আনায়নের কার্যকর সহযোগীতা প্রদানে রাষ্ট্রকে বাধ্যকরণ (২) অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক, বীমা সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ লুটকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং প্রত্যেকের শাস্তি নিশ্চিতকরন(৩) অর্থপাচারকারীদের অর্থ ফেরৎ আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন, উক্ত অর্থ রাষ্ট্রের পক্ষে বাজেয়াপ্ত, পাচারকারীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ (৪) ঘুষ গ্রহন ও প্রদানে শাস্তির বিধান কার্যকর (৫) রাজনৈতিক দল সমূহে বিপরীত আদর্শের অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে দলসমূহকে বাধ্য করা (৬) অরাজনৈতিক ব্যাক্তি, ব্যবসায়ী, আমলাদের রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ প্রদানে নির্দিষ্ট সময় পয্যন্ত বিরত রাখা (৭) সন্ত্রাসী, মাস্তান, দখলবাজ, ভুমিখেকো, ব্যাংক,বীমা সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটকারীদের রাজনীতিতে অন্তভুক্তি চিরতরে নিষিদ্ধ করা। (৮)চিহ্নিত রাজাকার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক, সামাজিক  সংগঠনে গ্রহন আইনত: দন্ডনীয় অপরাধ বিবেচিতকরে আইন প্রনয়ন। (৯)অরাজনৈতিক ব্যাক্তিদের রাজনৈতিক পদপদবীতে নির্বাচন করার সুযোগ বাতিল (১০) নির্বাচনে ত্যাগী, জনবান্ধব নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল সমূহের উপর চাপ অব্যাহত রাখা। (১১) বিগত৪০ বছরের সকল চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত বিচার কায্য সম্পন্ন করা প্রয়োজনে ট্রাইবুনাল গঠন। (১২) রাজাকার, আলবদর পরিবারের তালিকা প্রনয়ন, ভোটাধিকার বাতিল, নাগরিক সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ গ্রহন।


উল্লেখিত দাবী পূরণে এলাকাভিত্তিক "জনগন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির''  সুদৃড ঐক্য গড়ে তুলে রাজনৈতিক দল সমূহকে উল্লেখিত নীতি মানতে  বাধ্য করতে হবে। জনবান্ধব নেতাদের নেতৃত্বে অতীতের দুটি সফল সামাজিক আন্দোলনের পথ ধরে বর্তমান সময়েও কার্যকর  "সামাজিক   আন্দোলন" গড়ে তুলতে হবে। জনগনের স্বত:স্ফুত্য অংশগ্রহন নিশ্চিত করা ব্যাতিরেকে সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দলে জেঁকে বসা অশুভ দেশবিরুধী শক্তির অস্তিত্ব নিস্তেজ করা আদৌ সম্ভব হবেনা।


বিছানার উপর বিষধর সাপ দেখার পরও যদি কেউ বলে রাতে আমার ভাল ঘুম হয়েছে, তবে ধরে নিতে হবে সে মিথ্যে বলছে, অথবা সে নিজেও মানুষরুপী সাপ। তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে দেশদ্রোহী রাজাকাররের অস্তিত্ব রেখে যারা বলে শান্তিতে বসবাস করা সম্ভব সে হয় বোকার স্বর্গে বাস  করছে, নয়তো বা সে নিজেই দেশপ্রেমিক রুপী বড় রাজাকার।



লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।

   

পরবর্তী খবর পড়ুন : ভালুকায় উন্নয়ন মেলা


'গুপ্তধন' সন্ধানে আজও অভিযান

'গুপ্তধন' সন্ধানে আজও অভিযান

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ...

যুক্তরাষ্ট্রে নৌকা উল্টে ১৭ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে নৌকা উল্টে ১৭ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে নৌকা উল্টে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় ...

হামলাকারী ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে ঢাবিতে গণপদযাত্রা বিকালে

হামলাকারী ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে ঢাবিতে গণপদযাত্রা বিকালে

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারের ...

আজ ভারত সফরে যাচ্ছেন এরশাদ

আজ ভারত সফরে যাচ্ছেন এরশাদ

পাঁচ দিনের সফরে আজ ভারতের দিল্লি যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ...

সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সর্বশেষ ৩ নম্বর ...

খালেদার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির শুনানি আজ

খালেদার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির শুনানি আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে ঘোষিত ...

রংপুরে বাসচাপায় প্রাণ হারালেন অটোরিকশার ৩ যাত্রী

রংপুরে বাসচাপায় প্রাণ হারালেন অটোরিকশার ৩ যাত্রী

রংপুর শহরের হাজীরহাট এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ইজিবাইকের ...

পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, র‍্যাবের অভিযান চলছে

পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, র‍্যাবের অভিযান চলছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ...