রুপির সর্বকালীন রেকর্ড পতনঃ শেয়ার বাজারও বড় ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

পড়ল রুপির দাম। গত ৬ মাসে রেকর্ড পতন টাকার দামের। যার ফলে জোর ধাক্কা দেখা যেতে পারে শেয়ার বাজারে। মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির দাম পড়তে পড়তে ৭১. ২৬-এ এসে দাঁড়িয়েছে। গত ৬ মাসে এই পরিমান দামের পতন কখনও হয়নি। রুপির এই দামের পতনের জন্য আন্তর্জাতিক বজারে ভারতীয় কোম্পানিগুলির শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করবে। শেয়ার বাজারও বড়  ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরেই মন্দা যাচ্ছে শেয়ার বাজার। শেষ কবে চাঙ্গা হয়েছিল শেয়ার বাজার সেকথা ভুলতে বসার উপক্রম হয়েছে। রুপির এই দামের পতনের কারণেই সোনার দাম অগ্নিমূল্য হচ্ছে। আগস্ট মাসে সোনার দাম প্রায় ৪০,০০০ ছুঁই ছুঁই হয়েছিল। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে মোটেই সুখকর নয় সেটা টাকার দাম আর শেয়ার বাজার দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।

এদিকে গতকালই দেশে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। সৌদির অ্যারোম্যাক কোম্পানি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্সে বিনিয়োগ করছে। যা এযাবত সর্বাধিক বিদেশি বিনিয়োগ বলে দাবি রিলায়েন্স কর্তার। ঠিক তারপরের দিনই ডলারের তুলনায় টাকার দামের এই পতন ভাবিয়ে তুলেছে ব্যবসায়ীদের। কারণ হিসেব মতো এই বিপুল পরিমান বিদেশি বিনিয়োগ আসার পর টাকার সামে একটু স্থিতাবন্থা তৈরি হবে। কিন্তু তার কোনও আশাই দেখা যাচ্ছে না।

অনেক অর্থনীতিবিদ দাবি করেছেন হংকংয়ের বিক্ষোভ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। তার উপর আমেরিকার সঙ্গে চিনে বাণিজ্যিক বিবাদ আরও সমস্যা বাড়িয়েছে। সম মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবস্থা মোটেই সুবিধের নয়। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও।

রুপির দাম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধস নামল শেয়ার বাজারেও। বিকেল ৩টে বাজার আগেই ৫৬৫ পয়েন্ট পড়েছে শেয়ার বাজার। সময় যত এগিয়েছে পয়েন্ট কমতে কমতে ৬০০ পেরিয়ে গিয়েছে। আর নিফটি হালও একই রকম। নিফটি পড়েছে ১৬৬ পয়েন্ট।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতেও জেগে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির শেয়ার। তার অন্যতম কারণ সৌদি সংস্থার বিনিয়োগ। এযাবত দেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ হয়েেছ রিলায়েন্সে। কাজেই অত সহজে রিলায়েন্সের শেয়ার পড়বে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু শুধু মাত্র রিলায়েন্সকে নিয়েই তো গোটা দেশের ব্যবসা চলবে না। অন্য সংস্থাগুলির শেয়ার বাজারে এমন হাঁড়ির হাল দশা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।