যেভাবে সপরিবারে করোনামুক্ত হলেন বিটিভির মহাপরিচালক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

স্ত্রী-কন্যাসহ করোনামুক্ত হলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এম এম হারুন অর রশিদ।

করোনামুক্ত হয়ে তিনি নিজেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন।

ফেসবুকে তিনি লেখেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে সবার দোয়ায় আমাদের তিনজনের ২য় ফলোআপ টেস্টেও Covid-19 Negative result এসেছে।

করোনাকে মোকাবেলা করতে আমরা সাহস হারাইনি। বাসায় থেকে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছি। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেয়েছি। খেয়েছি এন্টিবায়োটিক ‘এজিথ্রেমাইসিন’ (৫দিন, দৈনিক ১টা করে) প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন ডি (২০০০ এমজি), দু’বেলা ২টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট (৬০ এমজি করে) এবং পানিতে গুলিয়ে প্রতিদিন ১ টি করে ভিটামিন সি (CavicC)।

আমাদের জ্বর ছিল। ছিল কাশি এবং ছিল খাবারে অরুচি। সামান্য শ্বাসকষ্ট হলেও হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা বাসায় সম্ভব না। আল্লাহর রহমতে আমাদের ৩ জনের মধ্যে কারোরই শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া ছিল না। আমি আমার ব্লাডসুগার কন্ট্রোলে রেখেছি। ব্যায়াম করেছি এবং রৌদ্র গায়ে মেখেছি। প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময় গরম পানি খেয়েছি এবং খাচ্ছি। গরমপানি দিয়ে দিনে ৩/৪ বার গড়গড়া করেছি। নানা উপাচার মিশিয়ে নাকেমুখে গরমপানির ভাপ নিয়েছি।

আমার স্ত্রী নাহীদ সুলতানা নিজের কোভিড-১৯ অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে একেবারে একা (আমাদের বাসায় কাজের লোক নেই ২৫ মার্চ থেকে) আমাদের সেবাযত্ন করেছে, করছে। নানা ধরনের মিশ্রণ, ক্বাথ বানিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। লেবুপানি, ফল, ফলের জুস, তুলসীপাতা, আদা, কালোজিরা, মধু, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে সে আমাদের immune system active এবং strong রাখতে যা যা করা সম্ভব করেছে, করছে। পরিষ্কার রাখছে ঘরবাড়ি।

কী কী করেছি, খেয়েছি- এসব বললাম এ কারণে যে এসব টোটকা অন্যদের কাজে লাগতে পারে।

আমাদের একমাত্র কন্যা নিকিতা নন্দিনী নিজে কোভিড-১৯ রোগী হয়েও বাসার অনেক কাজ করেছে। ঘরদোর জীবানুমুক্ত রেখেছে।

দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। খাবার ও ওষুধ পাঠিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন। পরিচিত ও অপরিচিত ডাক্তাররা টেলিফোনে আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে আমার দুই শ্যালক ডা. শাহরিয়ার কবীর তুষার এবং ডা. কাওছার (লিয়ন) বলতে গেলে ঘন্টায় ঘন্টায় আমাদের খবর নিয়েছে। ডা. তুষার বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে আমাদের চিকিৎসার সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করেছে। IEDCR যথাসময়ে অতি নিষ্ঠার সাথে আমাদের কোভিড-১৯ টেস্ট, ১ম ও ২য় ফলোআপ টেস্ট করে আমাদেরকে করোনামুক্ত সনদ দিয়েছে। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে।

আমাদের বন্ধু রানা’র intervention এ অনেক বিষয় expedite হয়েছে। রানার পুরো নাম এবং পরিচয় আর একদিন বলা যাবে।”