ইমিগ্রেশনের চোখে ধুলো দিয়ে হুইপ সামশুল দেশ ছাড়েন

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিনের মাথায় দেশ ছেড়েছেন সরকারদলীয় হুইপ ক্যাসিনো হোতা সামশুল হক চৌধুরী। সতর্কতা জারির মধ্যে তিনি কিভাবে দেশ ছাড়লেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতেই ইমিগ্রেশনের সার্ভিলেন্স টিমের সদস্যদের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের এই সংসদ সদস্য শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন বলে তার স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি কোন দেশে গেছেন তা নিশ্চিত করেননি স্বজনরা।

গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম আবাহনীসহ বিভিন্ন ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালায়। এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে হুইপ বলেন, চট্টগ্রামে আবাহনীসহ অন্যান্য ক্লাবের কার্ডধারী মেম্বাররা চাঁদা দিয়ে নিজেরাই তাস খেলে। সেই টাকায় ক্লাব পরিচালনার খরচ বহন করা হয়। এভাবে অ’ভিযান চালানো হলে ক্লাবগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ছেলেপেলেরা ছিনতাই-চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হবে। খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা তো কাম্য নয়। তাছাড়া সরকার ক্লাবগুলোকে কোনো টাকা দেয় না।

তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন খোদ সরকারি দলের নেতারাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ক্যাসিনোসহ দুর্নীতি-অপকর্মে জড়িত যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তিনি দলের লোক হলেও। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে হুইপের বক্তব্যের পর সাইফ আমিন নামে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত (যিনি একসময় চট্টগ্রামে কাজ করেছেন) এক পুলিশ পরিদর্শক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন- আবাহনী ক্লাবের জুয়া থেকে পাঁচ বছরে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ১৮০ কোটি আয় করেছেন। তিনি কোন ধরনের জুয়া থেকে কী পরিমাণ আয় হয় তার বিস্তারিত বিবরণও দেন। একইভাবে থানার ওসিরা জুয়ার আসর থেকে কী পরিমাণ টাকা আয় করেন তারও হিসাব তুলে ধরেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সর্বত্র। এ সময়ে আরও অনেকের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

গত ২৩ অক্টোবর হুইপ সামশুল হক, কয়েকজন সংসদ সদস্য ও কাউলর, প্রকৌশলীসহ ২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক। তাদের দেশত্যাগের বিষয়ে নজর রাখতে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি দেয় দুদক। ক্যাসিনো, মানি লন্ডারিং ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক এই ব্যবস্থা নেয়।

চিঠিতে দুদক জানায়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। তারা দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন সে বিষয়ে কার্যকর ব্যব’স্থা নিতে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।

এরপর গত ২৮ অক্টোবর হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ ৫০ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চি’ঠিতে অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, টাকার পরিমাণ, কবে কখন কার কার সঙ্গে লেনদেন হয়েছে, এসব ত’থ্য জানতে চাওয়া হয়। এর ১৮ দিনের মাথায় গতকাল হুইপ দেশ ছাড়েন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তার দেশ’ত্যাগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।