পুলিশ হেফাজতে পিছন হাতকড়া পরিয়ে ও চোখ বেঁধে যুবককে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

থানা হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামের এক যুবককে চোখ বাধাঁ ও পিছন হাতকড়া পরিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নড়াইলের লোহাগড়া পৌরশহরের গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, শিহাব মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার সকালে আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধে ফুফাতো ভাই মনিরুল ও খাইরুল মল্লিক যৌথভাবে তার পিতা এনামুল মল্লিকের ওপর চড়াও হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের বড় ভাই বদরুল মল্লিকের সাথে শিহাব মল্লিকের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় শিহাব বদরুল মল্লিককে মারধোর করেন। এ ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামী করে গত শনিবার দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পায় এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক। তিনি পরদিন রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিহাব মল্লিককে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ছুটে যান থানায়।

পরিবারের লোকজনকে দেখা করা ও রাতের খাবার দিতে দেয়নি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শিহাব মল্লিক বলেন, গত রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা ও সোমবার সকালে এসআই সিদ্দিক তাকে পিছনে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে নির্দয় ভাবে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শিহাবকে কিছুটা সুস্থ্যকরে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন। আদালত চত্ত্বরে তার পরিবারের কাছে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় শিহাব।

বৃহস্পতিবার শিহাব জামিনে মুক্ত হলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায়  লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয় তার পরিবার। শিহাবের এক নিকট আত্মীয় জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নড়াইলের লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোকাররম হোসেন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।