৫০ হাজার লোক আমার মৃত মাকে গালি দেয়,আই উইল নট লেট বেয়ার ইট

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

বড় একটা আক্ষেপ নিয়েই মারা গেলেন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদল। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরেই কালুরঘাট সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও তিনি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি গল্প বলেছিলেন। 

গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি বাদল বলেছিলেন, আমার শিক্ষক আমাকে বলছেন, তোমার কালুরঘাট সেতুর কি হইল। আমি বলছি চেষ্টা করছি। কয় মিয়া তুমি আর কী চেষ্টা করবা। তোমার অবস্থা হইল তুমি হইলা বকা উল্লাহ, তুমি বইকা যাবা। শোনা উল্লারা শুইনা যাবে করিমুল্লারা কইরা যাবে, আর খানে উল্লারা খাইয়া যাবে। আর গরীবুল্লারা চর্তুদিকে ফ্যাঁ ফ্যাঁ কইরা তাকাবে রাজা রানীর কথা আসলে বেশ বেশ করবে। এখন তুমি কোনটা? বলছি স্যার প্রথমটা তো হইছি। বকা উল্লা বলতে পারেন। বকা ছাড়া কাজ নাই। গত ১০ বছরের দেখেছি বকা ছাড়া লাভ নাই। আরেকটা হয়েছি গরীবুল্লাও বটে। এদিকে সেদিক ফ্যাঁ ফ্যাঁ করি। মাঝে মাঝে সুপারিশ মোতাবেক বাহ বেশ বেশ করি।

কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কালুরঘাট সেতু নির্মাণের জন্য অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ওদেরটা না মেনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানও আবার এটা করেছে। এই প্রজেক্টের নির্মাণ খরচ হলো ১ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৩৭৯ কোটি। বাকি পুরো টাকা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র ০.০১% সুদে ৪০ বছরে এই অর্থ পেমেন্ট করতে হবে। কিন্তু, কিছুই হলো না। এতকিছুর পরও বলবেন হাজার হাজার কোটি টাকার প্ল্যান পাস হচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে। আমি বকা উল্লা আমার এলাকায় গিয়ে কী বলবো?

ক্ষোভ প্রকাশ করে বাদল বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে যদি এটার কোনও সদগতি না দেখি, আই উইল গো আউট ফ্রম দ্য পার্লামেন্ট। আমি চলে যাবো। এরকম অপমান নেওয়া যায় না। ৫০ হাজার লোক ওই রাস্তা দিয়ে ক্রস (যাতায়াত) করে প্রতিদিন। ৫০ হাজার লোক আমার মৃত মাকে গালি দেয়। আই উইল নট লেট বেয়ার ইট।