কবে গণরুমের নৃশংসতা থেকে তারা মুক্তি পাবেঃ মো. ফারুক হাসান

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ■ বাংলাদেশ প্রেস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুমে থাকা প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থীর পিঠে ছারপোকার কামড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষত অংশের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারুক হাসান নামে এক শিক্ষার্থী নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে, শিক্ষার্থীরা কমেন্টের মাধ্যমে গণরুমের নৃশংসতার কথা তুলে ধরেন।

মো. ফারুক হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘তোমরা জেগে না উঠলে  এই অমানিশার অন্ধকার থেকে জাতি মুক্তি পাবে না, জাগো হে তরুণ জাগো আরেকবার। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে থেকে ছারপোকার কামড়ে মুহসিন হলের এক শিক্ষার্থীর জীবনের আজ এই অবস্থা। গেস্টরুম-গণরুম  বন্ধ কর, প্রথম বর্ষ থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বন্টন নিশ্চিত কর।‘

আলোচিত ডাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের আস্থা ছিল গণরুমে থাকা নৃশংসতা থেকে তারা মুক্তি পাবে। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও গণরুমে কোনো পরিবর্তন না আসায় হতাশ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় বিভিন্ন ইশতেহার ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তর করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা এমন নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়ও পায় তারা। কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি ভুলতে বসেছেন তারা। এখন যেখানে ছারপোকার কামড়ে শিক্ষার্থীদের জীবন অতিষ্ট তখন ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী নিজের রুমে এসি লাগিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

জানা যায়, গেল আগস্ট মাসের শুরুতেই জিএসের রুমে এসি স্থাপন করা হয়। যদিও, ডাকসুর ভিপি, এজিএসসহ অন্য রুমগুলোতে এসি স্থাপন করা হয়নি।

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর এমন বিলাসিতার সমালোচনা করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ ডাকসুর কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্য। তারা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদের সমস্যার সমাধান না করে তিনি কিভাবে নিজের রুমে এসি স্থাপন করেন। এটা অনৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

সম্প্রতি ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধেই নানা ধরনের অভিযোগ প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার খবরও আলোচনায় আসে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ডে দলের নীতিনির্ধারকরাও ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সাবেক নেতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বারবারই ত্যাগী হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু, ছাত্র সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা বরাবরই আরামপ্রিয়।