৬০ হাজার থেকে এক টাকা লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেয়!

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্যই অমঙ্গল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি পেতে যারা সহযোগিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও রোহিঙ্গারা যে এখন বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা, দিনকে দিন তাই স্পষ্ট হচ্ছে।

ক্যাম্পে সমাবেশ করাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকা-ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশী জাতীয়তা দিয়ে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট ও এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করায় সরকার বেশ ক্ষুব্ধ। বিষয়গুলোকে খুবই দুখজনক বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজেদের অনিচ্ছায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পিছিয়ে যাওয়ার পর সরকারের তরফ থেকে একটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এর কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চায়। এবিষয়ে দেশটি যে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তা অনেকটা স্পষ্ট।

এছাড়া, আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও জানান, একে আব্দুল মোমেন।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। চক্রটি গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও রোহিঙ্গা দালালদের নিয়ে। সম্প্রতি, বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ আটক হওয়া তিন রোহিঙ্গাকে জিজ্ঞাসাবাদে, এসব তথ্য উঠে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের এমন প্রবণতায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পরিবারসহ এসে, কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গা যুবক ইউসুফ, মুছা ও আজিজ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলি এলাকা থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ পুলিশের হাতে আটক হয় তারা।

চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান ওই তিন রোহিঙ্গা যুবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নোয়াখালী থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করে, ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল বা ইআরসি নামের একটি সংগঠনের নির্দেশনায়, ঢাকায় অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা।

আটক হওয়া তিন রোহিঙ্গাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, ৬০ হাজার থেকে এক টাকা লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেয় এই সিন্ডিকেট।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট-এনআইডি তৈরির এই চক্রকে শনাক্ত করে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, মেজর (অব:) এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, শাস্তি না হলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ।