যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ অস্ত্রসহ আটক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে গুলশানের বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে আটক করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ধরতে রাজধানীর গুলশান দুইয়ের এই বাসা ঘিরে ফেলে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য। বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালায় এলিট ফোর্সের সদস্যরা। অবৈধ অস্ত্রসহ আটক হন যুবলীগ নেতা।

একইসময়ে, ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব এর ভ্রাম্যমান আদালত। সেখানকার ৩১ কর্মচারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

পাশাপাশি জুয়া খেলতে আসা ১১১ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জব্দ করা হয় জুয়া খেলার সামগ্রী, মাদকদ্রব্য ও অন্তত ২৪ লাখ টাকা। পরে ক্লাবটি সিলগালা করে দেয়া হয়। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ ফকিরেরপুলের এই ক্লাবটির সভাপতি।

অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এই ক্লাবে আট মাস ধরে অবৈধ আসর বসত। অভিযানের সময় তাঁরা দেখতে পান, ক্লাবের নিচ তলায় যন্ত্রের মাধ্যমে জুয়া খেলা (ক্যাসিনো) চলছে। এ ছাড়া জুয়া খেলার ফাঁকে ফাঁকে মদ পান করা হচ্ছে।

সারওয়ার আলম জানান, যারা এই ক্লাবে এসেছেন, তাঁরা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আটক ব্যক্তিদের মদ পানের লাইসেন্স নেই। তিনি জানান, ইয়ংমেনস ক্লাবেরও মদ বিক্রির লাইসেন্স নেই।

আরও পড়ুন- ইয়ংমেনস ক্লাব ক্যাসিনোতে আটক ১৪২ জনকে কারাদণ্ড

সারওয়ার আলম আরও বলেন, এখন পর্যন্ত জুয়া খেলায় ব্যবহার হওয়া ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা তাঁদের দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁদের জেল-জরিমানা করা হবে। অভিযান আরও চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ই সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় যুবলীগ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে,” বলেছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ একজন নেতা।