আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষঃ গুলিতে নিহত ২

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯

ফরিদপুর প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া দারুলউলুম মাদ্রাসার নিকট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ওরফে ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই পক্ষে মারামারি হতো। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত দুজন ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক। তারা হলেন ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

এ ঘটনায় আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালাম (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নুমিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসে। তারা ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শরত তার সমর্থকদের গাড়ির মধ্যে থেকেই নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন।

তিনি বলেন, হানিফ মিয়া নিজে শটগান দিয়ে গুলি করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। শনিবার তিনি ও তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদ্রাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০ /১২ জন লোক আমাদের বাধা দেয়। তারা গাড়িতে হামলা করে গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। তারাও এ সময় পাল্টা হামলা চালালে গুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করে বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।