ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে স্মারকলিপি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ দুই দাবিতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ ছাত্রীরা। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী বঙ্গভবনে গিয়ে এ স্মারকলিপি দেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন।

ছাত্রীদের দুই দফা দাবি হলো– ধর্ষণ মামলায় ট্রাইবুনাল গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করা এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। প্রেসিডেন্টের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীরা হলেন- ইশাত কাসফিয়া ইরা, জিয়াসমিন শান্তা, মাকসুদা আক্তার তমা ও সাবরিনা তাবাসসুম নিথিয়া।

এ বিষয়ে ইশাত কাসফিয়া ইরা বলেন, ‘ধর্ষণ বর্তমানে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ষণের কারণে সরকারের উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। এই নারীদের রিস্কের মধ্যে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ’

তিনি আরও বলেন, একটা ধর্ষণ হলে আমরা আরেকট ধর্ষণের কথা ভুলে যাই। কিন্তু যখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, ধর্ষকদের বিচার হবে, তখন ভয় পাবে।  

উদাহরণ হিসেবে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে এসিড নিক্ষেপ কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন।

ঢাবি শিক্ষার্থী জিয়াসমিন শান্তা বলেন, 'গত ছয়মাসের ধর্ষণ পরিস্থিতি আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আগে ছিল শুধু ধর্ষণ। কিন্তু এখন ধর্ষণের পর মেরে ফেলছে। শূন্য থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ধর্ষণ আমাদের মারাত্মভাবে চিন্তিত করেছে। আমরা মনে করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের কথা বলা উচিত। অন্যরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চেয়ে থাকে। আমরা ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।'

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দেশব্যাপী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রীরা। এ সময় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শান্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ সময় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে বিচার করে ধর্ষককে দড়িতে ঝুলানোরও দাবি জানান শিার্থীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে এ কর্মসূচির ডাক দেন শিার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রীবৃন্দের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চাই’। এছাড়া আরও লেখা রয়েছে, ‘পরবর্তী ধর্ষিতা আমি হবার আগে, আমার সুরক্ষা রাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দিতে হবে’। একই লেখা ব্যানার নিয়ে তাদের সঙ্গে মানববন্ধনে যোগ দেন সচেতন নাগরিক সমাজ।