নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনের শিশু বিভাগের ছাদের পলেস্তরা খসে ৮শিশু সহ ১১জন আহত

আতংকে বিভাগের রোগী ও সেবিকারা,সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রশাসনের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯     আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ |

মাহবুবুর রহমান বাবু ,নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান ■ বাংলাদেশ প্রেস

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনের শিশু বিভাগের পলেস্তরা খসে পড়ে শিশুরোগীসহ অন্তত ১১জন আহত হয়েছে। তাদেরকে একই হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে দুপুরের মধ্যে পুরাতন এ ভবনের সকল কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া হবে। 

সকালে শিশু বিভাগের রোগী ও অভিভাবকদের অনেকের ঘুমও ভাঙেনি। কারো কারো ঘুম ভাঙলেও বেড থেকে উঠতে পারেনি । ঠিক সে মুহুর্তে হঠাৎ বিকট শব্দ করে শিশু বিভাগের ৪নং ওয়ার্ডের ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় ৮জন শিশু রোগী ও তিনজন অভিভাবক আহত হয়। তাদের মধ্যে দুইজন শিশু রোগীর অবস্থা গুরুতর। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপর থেকে সামান্য কিছু অংশ ঝরে পড়ে। এতে অনেকের মধ্যে আতংক তৈরি হয়। তাদের ধারণাই হয়েছে যে কোনো মুহুর্তে ধসে পড়বে। ঠিক সকালে তাদের ধারণাই যেন ঠিক হলো। ছাদের অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর অভিভাবকরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ে পুরো শিশু বিভাগের রোগী, তাদের অভিবাবক ও সেবিকারা।

এদিকে এঘটনার পর নতুন রুগী ভর্তী বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।পুরাতন কিছু রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতলের তত্বাবধায়ক মো. খলিল উল্যাহ্ জানান, শিশু বিভাগে সরকারিভাবে মোট ২৮টি বেড রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে দেড়শত রোগি ভর্তি থাকে। আজ শিশু বিভাগে মোট রোগি ভর্তি ছিল ১২০ জনের মতো। এর মধ্যে যে ওয়ার্ডের ছাদের অংশ খসে পড়েছে সেখানে ৭১জন শিশু ভর্তি ছিল। 

তিনি আরো জানান, ভবনটিতে শিশু বিভাগ ছাড়াও, পুরুষ মেডিসিন, ফার্মেসি বিভাগ, বিশেজ্ঞ ডাক্তার চেম্বার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০০৮ সাল থেকেই শিশু বিভাগের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়া শুরু হয়। এ যাবত ১৫ বারেরও বেশি সময় এভাবে পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে শিশু রোগী ছাড়াও সেবিকা, ডাক্তারও আহত হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে ভবনটিকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনেই রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে শিশু বিভাগের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে রোগি ও অভিভাবক আহত হওয়ার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ। এ সময় জেলা প্রশাসক আজকের মধ্যে রোগীদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন শেড নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।