চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আদালত

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০১৯     আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। শিক্ষক নিয়োগ মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে অপহরণের শিকারের জেরে এ নির্দেশ দেন আদালত। অপহরণের শিকার প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ছাত্র এমদাদুল হক জানান, চাঁদা না দেয়ায় মৌখিক পরীক্ষা ঠেকাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য তাকে অপহরণ করে। তার অভিযোগ, আবারো মৌখিক পরীক্ষার আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখনো নীরব।

গত ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় দিতে যায় একই বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদপ্রাপ্ত এমদাদুল হক। তার অভিযোগ, চাঁদা না দেয়ায় পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগেই অপহরণ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে মারধর করে 'শিবির কর্মী' আখ্যা দিয়ে থানায় সোপর্দ করে তারা। এতে ঐদিন পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি।

এমদাদুল হক বলেন, 'ছাত্রলীগ নামধারী কয়েকজন ছাত্র এসে আমাকে বলে ছোটভাইদের কিছু আর্থিক দাবি আছে। তখন আমি বলি কেমন দাবিদাবা? তখন আমি বললাম আমি পরীক্ষা শেষ করে এসে তোমাদের নাস্তা করায়ে দেবো। পরে তারা বলে এই জায়গায় যারা আসছে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। পরে ধাক্কা দিয়ে আর্টস ফ্যাকাল্টির পাশে নিয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করার তোড়জোড় করায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এমদাদুল। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ঐ বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন আদালত। পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার আবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জানান, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপহরণ এবং মৌখিক পরীক্ষায় বাধা দেয়ার বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর অপহরণের মামলায় তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।