কৃষি ও পরিবেশ

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কাটা হবে প্রায় ১২শ' গাছ

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তার অজুহাতে কেটে ফেলা হবে পাবনার শতবর্ষী ১২শ’ গাছ। পাশাপাশি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে প্রায় দেড়শ’ একর জমি। গাছ কাটার সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এদিকে, পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে উচ্ছেদের শিকার মানুষেরা। আর রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিবেশ ও সবার কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে প্রকল্পের কাজ।  

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ একর জমি বরাদ্দ দেয় রেলকর্তৃপক্ষ। বিশাল এই এলাকা জুড়ে রয়েছে অন্তত ৩০ প্রজাতির হাজারের বেশি গাছ। এরমধ্যে রয়েছে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী গাছ।  

কেটে ফেলার জন্য পাকশী রেলওয়ে বাজারের আশেপাশের প্রায় ১২০০ গাছের গায়ে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এই শতবর্ষী গাছ গুলো না কেটে পরিকল্পনা নেয়ার দাবি সাধারণ মানুষের।  

অন্যদিকে, অধিগ্রহণ করা ১৫০ একর জমির মানুষদের সরে যেতে নোটিশ দেয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা। 

পরিবেশবিদরা বলছেন, গাছগুলো কাটা হলে এই অঞ্চলের প্রকৃতির উপর বিরুপ প্রভাব পড়বে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের , ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এইচ এম মনিরুজ্জামান মামুন বলেন, এই এলাকায় যদি নিরাপত্তার খাতিরে সেনা ক্যাম্প তৈরি করতেই হয়, তাহলে আমার অনুরোধ থাকবে এমন কোন এলাকায় ক্যাম্পটা করা যাতে গাছগুলোর কোন ক্ষতি না হয়।

শতবর্ষী গাছগুলোকে যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণ করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। 

পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ে বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি। এরপরও যদি জরুরি প্রয়োজনে গাছগুলো কাটতেই হয় সেটি নিয়ম মেনেই করা হবে।